বাংলাধারা ডেস্ক »
এনজিও বা ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং নতুন করে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে এখন থেকে তাদের কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠিয়েছে ক্ষুদ্র ঋণপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অত্র অথরিটির গত ২৫ মার্চের সার্কুলারের অনুবৃত্তিক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, নভেল করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব এবং পরবর্তীতে এর প্রসাররোধে প্রযোজ্য নির্দেশনাবলি অনুসরণজনিত কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ন্যায় আপনাদের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।
এ অবস্থায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা, জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকের সঞ্চয় ফেরত, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে রেমিটেন্স সেবা প্রদান, এজেন্ট ব্যাংকিং এর কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ন্যায় জরুরি কার্যক্রমসমূহের পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মর্মে জানা যাচ্ছে।
এছাড়া এসময়ে দেশে বোরো ফসল কাটাসহ নতুনভাবে চাষাবাদ সম্পন্ন করা অ-শস্য কৃষি উদ্যোক্তাদের (মৎস্য, লাইভস্টক, পোলট্রি ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট) নতুনভাবে বিনিয়োগ বা বিদ্যমান কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় সংকুলানসহ বর্তমান সময়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাগণের ঋণের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে মর্মে বিভিন্ন উৎস হতে জানা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বর্ণিত খাতসমূহে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা জরুরি মর্মে প্রতীয়মান হয়।
অধিকন্তু, কোভিড-১৯ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতের বিশেষ করে কৃষি খাতের উৎপাদন ও বিপণনে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের ধারাবাহিকতায় ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরের দরিদ্র গ্রাহকদের জরুরি ঋণ চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিজস্ব তহবিল দ্বারা গঠিত ‘নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, ২০২০’ এর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরার লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখা প্রয়োজন।
১. নভেল করোনাভাইরাস রোগের প্রসার রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ দাফতরিক প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
২. কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ব্যতীত দর্শনার্থী বা সাক্ষাৎ প্রার্থীদের অফিসে আগমন নিরুৎসাহিতকরণ এবং নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অফিসে উপস্থিত সকলের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব (WHO এর গাইডলাইন অনুযায়ী) বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সেক্টরে প্রচলিত সমিতির সভা বা উঠান বৈঠক পরিহার করে ২ নং ক্রমিকে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি যথাসম্ভব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্রাহক পর্যায়ে সেবা প্রদান করতে হবে।
৪. নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে অফিসে অবস্থান না করা এবং একই সময়ে প্রয়োজনাতিরিক্ত কর্মী অফিসে উপস্থিত থাকা হতে বিরত থাকতে হবে।
৫. অফিস এবং অফিসে উপস্থিত সকলকে জীবাণুমুক্ত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৬. মহানগর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক লকডাউন ঘোষণাকৃত এলাকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে আলোচনাক্রমে ওই এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এবং
৭. সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে ঘোষিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন, ২০০৬ এর ধারা ৯ (চ) ও ধারা ৪৮ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












