১৩ মার্চ ২০২৬

তবলছড়ি খাদ্য গুদামের রাস্তার বেহাল দশা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি »

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি খাদ্য গুদামের রাস্তার বেহালদশা। দীর্ঘদিন এই রাস্তার কোন সংস্কার না করায় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে রাস্তার পাশে ছড়া থাকার কারনে বর্ষা মৌসুমে পানির ধাক্কায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার ফলে গুদামে খাদ্যশস্য পরিবহন করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

উপজেলার তবলছড়ি খাদ্যগুদামের রাস্তাটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রয়েছে, স্কুল, তবলছড়ি হাসপাতাল, তবলছড়ি বিজিবি ক্যাম্প, নতুন করে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সাপ্তাহিক বর্ডার হাট বসবে। এছাড়াও ছোট-বড় ট্রাক ধান, চাল, গম নিয়ে খাদ্যগুদামে প্রবেশ করার সময় রাস্তা সুরু হওয়াতে উল্টে যাচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করছে। খাদ্যগুদাম জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সবসময় ছোট-বড় ট্রাক কিংবা ভ্যানগাড়ী চলাচল করেই।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, তবলছড়ি খাদ্যগুদামের রাস্তাটি এক সময়ে প্রধান সড়ক ছিল বর্তমানে রাস্তাটি শুধু খাদ্যগুদাম, তবলছড়ি বিজিবি বিওপি ও সাধারণ জনগণ ব্যবহার করছেন প্রতিনিয়ত এই রাস্তায় ভাড়ায় চালিত শত শত মোটর সাইকেল, সিএনজি, খাদ্যগুদামের রাস্তাটি সুরু হওয়াতে এক সাথে দুটি মোটরসাইকেল চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। যার ফলে অনেকে দূর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। তাই তবলছড়ি খাদ্যগুদামের রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেন তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদের।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় উৎপাদিত ধান, গম, চাল সংরক্ষণ করার জন্য আশির দশকে তবলছড়ি বাজারের পাশে স্থাপন করা হয় তবলছড়ি এলএসডি (খাদ্যগুদাম)। বর্তমানে এই খাদ্যগুদাম অনেক সমস্যায় জর্জড়িত। বিশেষ করে গুদামে প্রবেশের রাস্তার বেহাল দশা।বর্তমানে নৌবাহিনী খাদ্যগুদামের সীমানা প্রাচীর, অফিস রুম, কোয়াটার সংস্কারের কাজ করছে ৭৭লাখ টাকা ব্যয়ে।

মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পুরো খাদ্যগুদামের অবস্থা খুবই খারাপ তার মধ্যে গুদামে প্রবেশের রাস্তা এতো বেশি খারাপ তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। আমাদের বাসা গুদামের পাশে হওয়ায় দিনে এবং রাতের আঁধারে এই রাস্তা দিয়েই যেতে হয়। মাঝে মধ্যে রাস্তার বড় বড় গর্তের মাঝে পড়তে হয়। অতিদ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা।

তবলছড়ি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইনুল হোসেন বলেন, পুরো খাদ্যগুদামের অবস্থা খুবই নাজুক ও করুন। বিশেষ করে গুদামে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির অবস্থা আরো করুন ও বেহাল। দীর্ঘদিন এই রাস্তার কোন সংস্কার না করায় বর্তমানে দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। প্রতিদিনই এই রাস্তায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার এই রাস্তার বেহাল দশার কথা বলেছি কিন্তু কোন লাভ হয় নাই। আমি তবলছড়ি খাদ্যগুদামে যোগদানের পর বর্তমানে খাদ্যগুদামের সীমানা প্রাচীর, অফিস কক্ষ, কোয়াটার সংস্কারের ৭৭লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ করছেন নৌবাহিনী রাস্তাটি সংস্কার হলে আর কোন সমস্যা থাকবেনা বলে জানান তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, আমি রাস্তাসহ গুদাম একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। পুরো খাদ্যগুদামসহ রাস্তাটির অবস্থা বেহালদশা। তবে বর্তমানে রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য আমি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ