১৩ মার্চ ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহসিন খান আর নেই

পটিয়া প্রতিনিধি »

চট্টগ্রাম পটিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন খান আর নেই। বুধবার (১৭ জুন) ভোরে রাজধানী সিকদার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দুই স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এর আগে গত ৪ দিন আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকায় চট্টগ্রামের কোনো ক্লিনিক জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে ভর্তি করায়নি। পরে ঢাকার সিকদার হাসপাতালে নিয়ে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মহসিন খান দক্ষিণ চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধকালে কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে পটিয়া উপজেলা পরিষদের দু’বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যানও ছিলেন।

জানা যায়, অসুস্থতার খবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনা এবং শেষমুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে সিএমএইচ এ চিকিৎসা গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন মহসীন খান। বিষয়টি পটিয়ার সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ দায়িত্বশীলদের তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানোও হয়েছিল।

মহসিন খান একাত্তরে চট্টগ্রামের স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে। ২৫ মার্চের পর চট্টগ্রাম শহরে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এক পর্যায়ে বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের সদস্যরা কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট সেতু ও বোয়ালখালী এলাকায় অবস্থান নেন। এসময় মহসিন খান ও অন্যরা তাঁদের নানাভাবে সহায়তা করেন।

একাত্তরে কালুরঘাট থেকে বাড়ি ফেরার পর এস এম ইউসুফের চিঠি পান। সেই চিঠি নিয়ে মহসিন খান ফ্লাইট সার্জেন্ট এ এইচ এম মহি আলমসহ হুলাইন এলাকার রফিকের বাড়িতে একত্র হয়ে এপ্রিলের শেষ দিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে বাড়ি ছাড়েন। হেঁটে ফেনী হয়ে দুই দিন পর ভারতের শ্রীনগরে পৌঁছেন। সেখানে এসএলআর, থ্রি নট থ্রি রাইফেল, এলএমজি, এসএমজি, গ্রেনেড, এক্সপ্লোসিভ ব্যবহার, চায়নিজ স্টেনসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরিচালনায় এক মাস ট্রেনিং নেন মহসিন খান। জুন মাসের শেষের দিকে তাঁদের আট-দশজনের একটি দল পার্বত্য চট্টগ্রামের বিলাইছড়ি হয়ে দেশে প্রবেশ করে।

বৈষ্ণবপুর সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় ফটিকছড়ির দুটি ও রাঙ্গুনিয়ার একটি গ্রুপ, বোয়ালখালীর আবুল হোসেন গ্রুপ, দক্ষিণ পটিয়ার মনজুরুল হক গ্রুপ, আনোয়ারার কাজী ইদ্রিস ও ফজল গ্রুপ এবং মহসিন খানের গ্রুপ একসঙ্গে ছিল। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মোট সংখ্যা ছিল ১১০। তাঁকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মহসিন খান পটিয়ার কমান্ডারের দায়িত্ব পালন ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামে আঞ্চলিক গ্রুপের সহকারী কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে কর্ণফুলী নদীর চর পাথরঘাটায় দুটি পাকিস্তানি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া, আনোয়ারা থানায় পাকিস্তানি মিলিশিয়া ও রাজাকার ক্যাম্পে অপারেশন শেষে ১৫-১৬ জনকে আটকের পর চানখাঁর পুলে এনে গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া ছাড়াও বহু অপারেশনে নেতৃত্ব দেন অসীম সাহসী এই মুক্তিযোদ্ধা।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ