১৩ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ‘পলাতক করোনা রোগীরাই’

তারেক মাহমুদ »

চট্টগ্রামে দিন যত যাচ্ছে ততোই বেড়ে চলেছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডকে রেডজোনের আওতায় আনা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামে তিন’শর বেশি করোনা রোগীর সন্ধান পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ প্রশাসন।

নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসার পর লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এসব রোগী করোনা বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে একাধিক মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে গত আড়াই মাসে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। আর মারা গেছেন ১২৪ জন। কিন্তু করোনা পজেটিভ হওয়া রোগীদের মধ্যে তিন’শর বেশি রোগীর কোনো হদিস পাচ্ছে না প্রশাসন। নগরীতেই লাপাত্তা হওয়া রোগীর সংখ্যা দু’শোর বেশি।

করোনা পজিটিভ হওয়া রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো থেকে শুরু করে আবাসস্থল লকডাউনের দায়িত্ব পালন করতে হয় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকেই। কিন্তু ভুল মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি পুরো ঠিকানার অভাবে এসব রোগীর ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, অনেকেই কিন্তু তাদের মোবাইল ফোনের নম্বরটা ভুল দিচ্ছেন অথবা বন্ধ করে রাখছেন আমরা যখন ঠিকানা খুঁজতে যাই তখন সেটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

চিকিৎসকদের মতে, বতর্মানে চট্টগ্রাম সামাজিক সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে অবস্থান করছে। প্রতিদিনই দেড়’শো থেকে দু’শো রোগীর করোনা পজিটিভ ফলাফল আসছে। আর পালিয়ে থাকা করোনা রোগীরাই বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে সংক্রমণ বিস্তারে।

চট্টগ্রাম ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সমন্বয়কারী ডা. এ কে এম আরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যাদের জ্বর নেই সর্দি নেই তারা উপসর্গহীনভাবে এ রোগ আক্রান্ত বা বহন করছে। তারা যদি অবাধে সমাজে চলাফেরা করতে থাকেন তাহলে এটা অবশ্যই ক্ষতিকর হবে।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বর্তমানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নমুনা বুথে যারা কাজ করছেন তাদেরকে বলা আছে একাধিক মোবাইল ফোন নম্বর রাখতে এবং ভোটার আইডি কার্ড রাখতে।

এর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১০টি ওয়ার্ড রেড জোনের মধ্যে পড়েছে। করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির গত শনিবারের সভায় এসব এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়। 

রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা এলাকাগুলো হল- চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬ নম্বর ওয়ার্ড, ২০ থেকে ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

চট্টগ্রামের যেসব এলাকায় প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় ১৪ দিনে ৬০ জন আক্রান্ত হয়েছে সেসব এলাকাকে রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। 

ইতোমধ্যে নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড উত্তর কাট্টলী এলাকায় লাকডাউন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নগরীর চকবাজার এলাকাকে লকডাউনের আওতায় আনার পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ