বাংলাধারা প্রতিবেদন »
বৃষ্টি আর্শীবাদ হলেও টানা বৃষ্টি শুরু হলেই তা যেন চট্টগ্রামবাসীর জন্য পরিণত হয় অভিশাপে। গত দুদিনের বর্ষণে চট্টগ্রামে প্রতিবছরের মতো জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানহীন সড়ক গুলোও একদিনের বৃষ্টিতে অনেকটাই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অব্যাবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তাদের ভোগান্তির। সরেজমিনে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির ফলে রাস্তার বেহাল দশা, তৈরী হয়েছে খাদা-খন্দ, যেখানে পানি জমে জলাবন্ধতার রুপ নিতে শুরু করেছে।
বিভিন্ন স্থানে সড়কে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘর থেকে যারা বের হয়েছিলেন, তাদের পথে পথে পোহাতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
রাইসুল আলম নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অব্যাবস্থাপনায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছরই বৃষ্টি হলেই নগরীর টাইগার পাস এলাকার রাস্তাটির এমন ভঙ্গুর দশা হয়। একি সমস্যা প্রতি বছর হলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

রাস্তার এই বেহাল অবস্থার জন্য প্রতিনিয়তই ঘটছে নানান দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে এই সড়কটি।
ভাঙা এই রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে চালকরাও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। সি এন জি চালক মস্তাক বলেন, এই স্থান দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়া খুবি ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খাদ হয়ে আছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকে এইসব খাদে। দূর থেকে বোঝার উপায় থাকে না। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়শই আটকে যায় চাকা। এছাড়া দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তো আছেই।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ঝড়ো বাতাসসহ ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। অতি বর্ষণের ফলে ভূমি ধস হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অধিদফতর থেকে ভারী বর্ষণের আভাস পেয়ে সকাল থেকেই নগরের ৬টি সার্কেলের অধীনে থাকা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণদের সরাতে মাইকিং করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা এইসব লোকদের জন্য নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ ও কাট্টলী এলাকায় ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে যে কেউ আশ্রয় নিতে পারবেন।
নগরবাসীর সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, তারা আশঙ্কা করছে ভারী বর্ষণ শুরু হলে ভোগান্তির মাত্রা চরমে পৌছাবে। অন্যদিকে পাহাড়ের ঢালে থাকা জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। দরকার ছিল পাহাড়ের আশপাশে জীবিকার পথ খোলা রেখে পুনর্বাসন করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তাদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার পরও সেখানে তারা থাকেনি। কারণ, পাহাড় থেকে যথেষ্ট দূর হওয়ার কারণে তাদের জীবিকার প্রশ্ন তীব্র হয়েছে।
এসব ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












