১৩ মার্চ ২০২৬

এন্ড্রু কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক; দোয়া চাইলেন ইথুন বাবু

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

বেশ কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছিলো, সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পর জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। বর্তমানে রাজশাহী নিজ বাস ভবনে অবস্থান করছেন তিনি। জনপ্রিয় এ শিল্পীর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক ইথুন বাবু। 

ইথুন বাবু বলেন, এন্ড্রু দা আর আমি একই ওস্তাদের ছাত্র। দাদার জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে আমি সব সময় দোয়া করি। দাদার খেতে, চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। আগের মত সেই শক্তিটা আর নেই। বুকের ভিতর ধড়ফড় করছে। এন্ড্রো কিশোর দাদার জন্য মনটা ভিষণ খারাপ।

এদিকে রোববার (৫ জুলাই) দুপুরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই শিল্পীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

তবে তাঁর পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এন্ড্রু কিশোর বেঁচে আছেন, তবে তাঁর অবস্থা আশংকাজনক। বর্তমানে তিনি তার বোনের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, ‘কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর এখনও বেঁচে আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। কথা বলতে পারছেন না। এটা বিকাল ৪টার খবর; প্রার্থনা করুন সবাই।’

কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, এন্ড্রু কিশোরের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। বলা যায় আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই রয়েছেন। তার বোনের ক্লিনিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে। এই অবস্থায় দয়া করে কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করবেন না।

এর আগে ৯ মাস পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন এন্ড্রু কিশোর ১১ জুন রাত আড়াইটার একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেন। তারপর ঢাকার বাসায় বেশকিছু দিন অবস্থান করে শরীরের অবস্থা বিবেচনায় ও কোলাহলমুক্ত থাকতে তিনি গ্রামের বাড়ি রাজশাহী চলে যান।

গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যান্সারে (নন-হজকিন লিম্ফোমা) আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। এন্ড্রু কিশোরকে বলা হয় ‘প্লেব্যাক সম্রাট’। ১৯৭৭ সালে মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানের মাধ্যমে তাঁর প্লেব্যাক যাত্রা শুরু। যদিও ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া প্রতীজ্ঞা সিনেমার ‘এক চোর যায় চলে’ গানের মাধ্যমে প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করেন এন্ড্রু কিশোর। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। বাংলা চলচ্চিত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে প্লেব্যাক করে। পেয়েছেন ৮বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ সব অনুভূতির হাজার হাজার গান গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, চোখ যে মনের কথা বলে, পড়েনা চোখের পলক ইত্যাদি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ