বাংলাধারা প্রতিবেদন »
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে তরুণদের উদ্যোগে নির্মিত ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’র রোগীদের জন্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সহধর্মিনী রাশেদা খানম ৩ প্রজাতির আম, আপেল, মালটা উপহার পাঠিয়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রাষ্ট্রপতি পত্নীর পাঠানো এসব উপহার সামগ্রী পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রামের প্রধান উদ্যোক্তা ও মুখপাত্র মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন।
চট্টগ্রাম নগরীতে গড়ে উঠা করোনা আইসোলেশন সেন্টারগুলোর মধ্যে হালিশহরে তরুণদের উদ্যোগে নির্মিত আইসোলেশন সেন্টার খুব সুনাম কুড়িয়েছে ইতোমধ্যে। স্বপ্নবাজ তরুণেদের উদ্যোগে গড়ে উঠা ও সুপরিচালনায় আনন্দিত হয়ে এইসব উপহার সমগ্রী পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইসোলেশন সেন্টারের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন খুব আনন্দের সাথে বলেন, আমাদের এই আইসোলেশন সেন্টারে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সহধর্মিনী রাশেদা খানম ৩ প্রজাতির আম, আপেল, মালটা উপহার পাঠিয়েছেন। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। উপহার প্রদানের মধ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিদের উৎসা দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি পত্নীর প্রতি আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, যতটুব সম্ভব আমরা দিনরাত এই আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখানে ১২ জন চিকিৎসক, ৭ জন নার্স ছাড়াও ৫০ স্বেচ্ছাসেবক আছেন ৫০। তারা একাগ্রতার সাথে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন সেবা এবং দামি ওষুধও বিনামূল্যে এখান থেকে দিচ্ছি।
‘মানবিক মানুষের সহযোগিতা আর আন্তরিকতার ভিত্তিতেই গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে এই ১০০ শয্যার মানবিক প্রতিষ্ঠান। কেবল দেশ থেকেই নয় দেশের বাইরের অনেক বন্ধু আর শুভ্যানুধ্যায়ীরাও বাড়াচ্ছেন সাহায্যের হাত। কেউ দিচ্ছেন অক্সিজেন আবার কেউ পাঠাচ্ছেন ব্যক্তিগত নানা সুরক্ষা সামগ্রী। এভাবে ধীরে ধীরে স্বল্প পরিসরে এগিয়ে যাচ্ছে এই আইসোলেশন সেন্টারের কাজ।’- যোগ করেন সাজ্জাত হোসেন।
একদল স্বাপ্নবাজ তারুণের উদ্যোগে চট্টগ্রামের হালিশহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে করোনা আইসোলেশন সেন্টার। যার সুফল পেতে শুরু করেছে চট্টগ্রামসহ আশেপাশের জেলাগুলোর মানুষ। সফলতা পাওয়ার উদ্যোক্তারা এখন চাইছেন চট্টগ্রাম শহরের আরও বেশ কয়েকটি পয়েন্ট আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তোলার।
জুনের প্রথমদিক থেকে চট্টগ্রামের একঝাঁক নিবেদিত মানবিক তরুণ প্রাণের প্রচেষ্টায় মাত্র ১০-১২ দিনে চালু হয় ১০০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টার। জুনের ১৩ তারিখ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে রোগী নেয়া শুরু করে সিআইসিসি। সেই থেকে মানবিক দৃষ্টান্ত আর চিকিৎসা সেবার অনন্য নজির স্থাপন করে নানা মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে এই উদ্যোগ।
আইসোলেনশন সেন্টারের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় এখন তা একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এই আইসোলেশন সেন্টার থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে চট্টগ্রামে নানা স্থানে আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তুলতে অনেকেই উদ্যোগী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সিটি হলে গড়ে তোলা হয়েছে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সুবিধা। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গাতেও বিদ্যানন্দ-সিএমপি সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলেছেন ১০০ শয্যার করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল। এ তালিকায় শিগগিরি যুক্ত হবে আরো বেশ কিছু আইসেশন সুবিধা।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












