১৩ মার্চ ২০২৬

পটিয়ায় পশুর হাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি

গিয়াস উদ্দীন, পটিয়া »

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ঘনিয়ে আসলেও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় জমে ওঠেনি পশুর বাজার। পশুর বাজারে বিক্রেতারা গরু ছাগল নিয়ে উপস্থিত হলেও ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। এ ছাড়াও করোনার প্রভাবে কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পটিয়ার প্রায় খামারিরা। কোরবানির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে বেচা-বিক্রি না থাকায় লাভের আশা ছেড়ে এখন গরু পালনে খরচটুকু তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন গরু বেপারীরা।

বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকার ঘোষিত লকডাউন তুলে নিলে সীমিত হারে পশুর হাট বসলেও ক্রেতা নেই তেমন। তারা প্রতি বাজারে গরু নিয়ে আসলেও বিক্রি না করে বাড়িতে ফেরত যেতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার গরু পালন হয়েছিল। খামারিরা ভালোই লাভ পেয়েছিলেন। এবারও প্রায় ৪০ হাজার গরু পালন করছেন খামারিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোটামোটি গরু নিয়ে ব্যবসায়ী আসলেও ক্রেতাদের তেমন দেখা যায়নি পশুর মাঠে। পটিয়ায় দুটি বড় বাজারে পৌরসভার নতুন থানা হাট ও উপজেলা শান্তির হাট এই দুই হাটে দেখা গেছে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতারা বেশি। সাধারণত পটিয়া উপজেলায় যে হাট বাজারগুলো বসতো এখন তা প্রায় বিলুপ্ত।

এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভা নতুনহাট কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, বিগত বছর গুলোতে আমরা সফলভাবে পশুর হাট পরিচালনা করেছি। কিন্তু এবারের কোরবানি ঈদের বাজার নিয়ে আমরা চিন্তার আছি। ক্রেতাদের সুবিধার্থে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে হাসিল।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতির কারণে কম দামে অনেক খামারি বাজারে না নিয়ে খামারেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। তবে যারা চট্টগ্রামসহ দেশের অন্য জেলায় গরু বিক্রি করেন। তারা অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি বোঝার জন্য। চট্টগ্রামের কোরবানির চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রেখে আসছেন পটিয়ার গৃহপালিত খুচরা বিক্রতে খামারি ও কৃষকরা।

এবার কোরবানির ঈদকে ঘিরে উপজেলার ৫০০শ’ও বেশি খামারে পালন করা হয়েছে অর্ধ লাখেরও বেশি পশু। এছাড়াও প্রায় ১০ হাজার ছাগল পালন করেছেন খামারিরা। তবে করোনার কারণে এবার প্রায় ৫০ শতাংশ পশু অবিক্রিত থাকতে পারে বলে খামারি ও কৃষকরা আশঙ্কা করছেন।

উপজেলার শোভনন্ডী রশিদাবাদ গ্রামে বেঞ্চা মিয়া নামে এক গরুর ব্যবসায়ী জানান, আমি প্রায় ১৫বছর যাবৎ গরুর ব্যবসা করে আসছি, এরকম পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি। প্রতি বছর ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’গরু বিক্রি করি শুধু কোরবানি ঈদে। এছাড়াও সারা বছর বাড়িতে কম-বেশি গরু পালন করি। দিন-রাত গরু পরিচর্যায় সময় দিয়ে যাচ্ছি, তবে ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

এর আগে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কোরবানি হাট বসানো নিয়ে গত ১৬ জুলাই পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমার অফিসে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে হাটে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সরকার নির্দেশিত সকল বিধি নিষেধ মেনে হাট পরিচালনার জন্য সকলের সহযোগিতাও চেয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জপু চক্রবর্তী বলেন, উপজেলায় প্রচুর গরু পালন করেছেন খামারিরা। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসায় তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। অন্যান্য বছর উপজেলার খামার মালিকরা চট্টগ্রামের বাজারে গরু নিয়ে লাভ করতেন। তারা এবার ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

এ অবস্থায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে গরুর বাজার। স্থানীয় বাজারে কেনাবেচা হলেও বাইরে থেকে বেপারিরা এবার আসছেন না দেখে চিন্তা বেড়েছে খামারিদের। আমরা খামারিদের মনোবল বাড়াতে কাজ করছি। তাদের নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ