১৪ মার্চ ২০২৬

আজ ড. অনুপম সেনের ৮০তম জন্মদিন

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

খ্যাতনামা সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন ১৯৪০ সালের এই দিনে (৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৪ সাল শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন। বর্তমানে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুপম সেনের গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার ধলঘাট গ্রামে। তার বাবার নাম বীরেন্দ্রলাল সেন ও মা স্নেহলতা সেন। আইন ব্যবসায়ী বীরেন্দ্রলাল ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে জন্ম নিলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনুপমের শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামে। ধলঘাট ইংলিশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। যুদ্ধ শেষ হলে ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে বোনসহ কলকাতায় মামার কাছে চলে যান। সেখানে সেন্ট ক্যাথিড্র্যাল মিশনারিতে ভর্তি হন।

পরিবেশ শান্ত হলে কলকাতা থেকে ফিরে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল এইচ ই স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯৫৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে সমাজতত্ত্বে স্নাতক ও ১৯৬৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের জন্য তিনি কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ১৯৭৩ সালে। ১৯৭৫ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্বে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৯ সালে ‘দ্য স্টেট, ইন্ডাস্ট্রিলাইজেশন এ্যান্ড ক্লাস ফরমেশনস ইন ইন্ডিয়া’ বিষয়ে পিএইচডি লাভ করেন। এটি বই আকারে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা ‘রাউটলেজ’ প্রকাশ করার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ের পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

অনুপম সেন ১৯৬৫ সালের মার্চে পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বুয়েটে) সমাজতত্ত্ব ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৭৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষা সহায়ক (টিএ) ও টিউটরের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালে দেশে ফিরে পুনরায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালের জুন থেকে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেসরকারি) উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন এবং অদ্যাবধি সেখানে কর্মরত আছেন। অনুপম সেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বাধীনতা সংগ্রামে যুক্ত হন।

১৯৮৪-৮৫ ও ২০০০-২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং ১৯৮৪-৮৫ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অনুপম সেন সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা সাহিত্য বিষয়ে ১৫টির বেশি গ্রন্থ ও অনেক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখযোগ্য হল— ‘দ্য স্টেট, ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন এ্যান্ড ক্লাস ফরমেশনস ইন ইন্ডিয়া’, ‘বাংলাদেশ : সমাজ ও রাষ্ট্র’, ‘বাংলাদেশ ও বাঙালি : রেনেসাঁস, স্বাধীনতা-চিন্তা ও আত্মানুসন্ধান’, ‘ব্যক্তি ও রাষ্ট্র : সমাজ-বিন্যাস ও সমাজ-দর্শনের আলোকে’, ‘আদি-অন্ত বাঙালি : বাঙালি সত্তার ভূত-ভবিষ্যৎ’, ‘বাংলাদেশ : ভাবাদর্শগত ভিত্তি ও মুক্তির স্বপ্ন’, ‘বিলসিত শব্দগুচ্ছ’ ও ‘সুন্দরের বিচার সভাতে’।

ড. অনুপম সেন বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদান রাখায় বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন; শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদক একুশে পদকে ভূষিত হন।

অন্যান্য স্বীকৃতির মধ্যে রয়েছে— আলোকিত বোয়ালখালীর বর্ষপূর্তি সংবর্ধনা ২০০৭, অবসর সাহিত্য পুরস্কার ২০০৭, একুশে মেলা পরিষদ চট্টগ্রামের একুশে পদক ২০০৭, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন পদক ২০০৭, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সম্মাননা ২০০৬, ইউনাইটেড নেশনস ডে এ্যাওয়ার্ড ২০০২, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের গুণীজন সংবর্ধনা ১৯৯৯ ও জাহানারা ইমাম স্মারক পদক ২০১০।

১৯৬৬ সালে শ্রীমতি উমা সেনগুপ্তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অনুপম সেন। তাদের একমাত্র মেয়ের নাম ইন্দ্রানী সেন গুহ।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন