জসাইউ মার্মা, বান্দরবান »
জুমচাষের পাশাপাশি তিত করলাসহ বিভিন্ন শাকবসজি চাষ করতে শিখে গেছে সবুজ পাহাড় দেশ বান্দরবানে জুমিয়ানরা। বান্দরবানে চিম্বুক পাহাড়ের বুক জুড়ে প্রত্যন্ত এলাকায় পাহাড়ে এবার তিত করলা সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। মুখে হাসি ফুটিছে এখানকার ৫ শতাধিক কৃষকের।
প্রতিবছর এই সময়ে চিম্বুক পাহাড়ে আসলে দেখা মিলবে চাষিরা নিজের ফলানো তিত করলা ঠুরুং (ঝুড়ি) করে মাঠায় নিয়ে রাস্তার ধারে মজুত করে রাখছে।
চিম্বুক এলাকায় অধিকাংশ চাষিরা এখন পাহাড়ে সবজি চাষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বান্দরবানের চাহিদা মিটিয়ে পাশ্ববর্তী সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে তিতকরলা রফতানি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চিম্বুক পাহাড়ের পাশে বিভিন্ন পাহাড়ে প্রায় দেড় শতাধিক উঁচু পাহাড়ের চূড়ায়, ঢাল ও পাদদেশে কৃষকরা ব্যাপক হারে তিত করলা সবজি চাষ করেছে। পাহাড়ি ভূমি উর্বর ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় প্রতিটি সবজি ক্ষেতে আশানুরুপ ফলন হয়েছে। প্রতি কেজি তিত করলা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে, প্রতিমণ ৮০০ টাকায় ব্যাপারিরা নিয়ে যাচ্ছে।
দেওয়ায় পাড়ার নিবাসি কৃষক রাওরিং (৩৫) বাংলাধারাকে বলেন, পাহাড়ে প্রায় দেড় একর জমিতে তিত করলা চাষ করেছি। আবহওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিন ১শ থেকে ১৫০ কেজি তিত করলা উত্তোলন করছি। খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ২৫ হাজার টাকার তিত করলা বিক্রি করেছি। আরো ৫০-৬০ হাজার টাকার মতো তিত করল বিক্রি করা যাবে।
আরেক কৃষক রুইমা বলেন, প্রথমে আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে করলা চাষ করতাম। ফলন ভালো হওয়ায় পরবর্তীতে সব জায়গা জুড়ে করলা চাষ করি। প্রথমে বান্দরবান বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে হতো, এখন ব্যাপারি এসে এখান থেকে নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে পতিত জমিতে সবজি চাষের জন্য ঋণ সুবিধাসহ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে প্রশিক্ষণ পেলে আরো উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
সাতকানিয়া সবজি ব্যবসায়ী সুলেমান বলেন, শহরে পাহাড়ে সবজির কদর থাকে বেশি। তাদের কাজ থেকে সবজি কিনে শহরে আরদদারের কাছে বিক্রি করে থাকি। সবজির দামতো উঠা নামা থাকে। যখন যে দর তখন সেই দামে বিকিনিকি হয়।
এ বিষয়ে বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বাংলাধারাকে জানান, এবারে ১ হাজার ২১৭ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে সবজি চাষ হয়েছে এবং তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে কৃষকরা তিত করলা চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে তিত করলাসহ সকল ধরনের সবজির ফলন ভালো হয়েছে। এ জন্য কৃষকরা সবজি চাষে অত্যন্ত খুশি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












