কক্সবাজার প্রতিনিধি »
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে কক্সবাজারের কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে ৫২টি অবৈধ স্থাপনা অবশেষে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধের মুখে কয়েক ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে এসব গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। সেখানে রেস্তোরাঁ, শুটকি মাছের দোকান, ট্যুরিজম অফিস, ফার্মেসিসহ নানা ধরনের দোকানও রয়েছে।
এসময় পুলিশ ও অবৈধ দখলদারদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেয়া আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মাঝে বিএনপি ও সরকারদলীয় নেতারাও রয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
এসময় অবৈধ দখলদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বহিরাগত কিছু লোকজন একজোট হয়ে স্থাপনাগুলোর সামনে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সন্ধ্যার পূর্বে অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ।
উচ্ছেদে প্রতিরোধ সৃষ্টি করায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুলসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় ব্যবসায়ী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াস, যমুনা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি নুরুল করিম রাসেল, সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরীসহ আহত ১০-১৬ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। গত ১ অক্টোবর আপীল বিভাগ কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় সৈকত সংলগ্ন ৫২ দোকান উচ্ছেদের আদেশ দিয়েছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ, কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তার, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
অভিযানকারী সূত্র জানায়, উচ্ছেদ অভিযান শুরুর সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। বিক্ষোভ করে উচ্ছেদ কার্যক্রমে চরমভাবে বাধা দেয়। ক্ষোভ থামাতে ফাঁকা গুলি, রাবারবুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে পুলিশ। পুলিশের শক্ত অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিক্ষোভকারী দখলদাররা পিছু হটে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ জানান, ইমারত নির্মান আইন, ১৯৫২এর বিধি-বহির্ভূতভাবে সুগন্ধা পয়েন্টে নির্মিত ৫২ টি স্থাপনা সরাতে কউক ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ৫২ টি দোকান মালিক মহামান্য হাইকোর্টে রীট করলে (৫৭০০/২০১৮) হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়।
এর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে (লীভ টু আপীল নাম্বার ২৪১/২০১৯)। গত ১ অক্টোবর হাইকোর্টের দেয়া রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্র পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
সেই প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পালনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ৫২ টি দোকানের মালামাল ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
এদিকে, আদেশের পর গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে প্রশাসনের লোকজন সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে যান। ব্যবসায়ীদের মালামাল সরাতে এক দিনের শর্ত দিয়ে সময় দেয়া হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উচ্ছেদে বাঁধায় নেতৃত্ব দেয়া ৮জনকে আটক করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, সুগন্ধা পয়েন্টের ওই স্থানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বিএনপি কতিপয় নেতা-কর্মী মিলে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছিল।
বাংলাধারা/এফএস/এএ












