বাংলাধারা ডেস্ক »
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দুটি গয়না নৌকা ভাসানো হচ্ছে জাতীয় সংসদের লেকে। তবে এ নৌকা দুটিতে কেবল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ (ভিআইপি) ও বিদেশি অতিথিরা সংসদের লেক ভ্রমণ করতে পারবেন। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) লেকে নৌকা ভাসাবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী ।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন এ নৌকা দুটি তৈরিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নৌকা দুটি ২৭ ফুট লম্বা এবং পাঁচ ফুট চওড়া।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদ ভবনের লেকে ভাসমান নৌকায় সাধারণ মানুষের ওঠার সুযোগ থাকছে না। ভিআইপি ও বিদেশি পর্যটকরা এ নৌকায় সংসদের লেক ভ্রমণ করতে পারবেন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কৃষ্টি-কালচার ও ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে এই নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি এবং দেশের নদীনালাসমূহ মরে যাওয়ার ফলে নৌকায় চড়ার ঐতিহ্য নষ্ট হতে চলেছে। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হওয়ার পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গয়না নৌকাও। বিলুপ্তপ্রায় এই নৌকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পর্যটন করপোরেশন থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সংসদ লেকে নৌকা ভাসানোর সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে সংসদ ভবনে বসে প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে নৌকা দুটি তৈরি করা হয়। এর ডিজাইনও তিনি করেছেন। পরে প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান চূড়ান্ত ডিজাইনটি করেছেন। তৈরির আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এটি দেখে সম্মতি দিয়েছেন।
আরও জানা গেছে, মুজিববর্ষ চলাকালীন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে নৌকা দুটি পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয় ও পর্যটন করপোরেশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) জিয়াউল হক হাওলাদার বলেন, দেশের নৌকা ভ্রমণের হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা মুজিববর্ষে এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সভ্যতা ও ঐতিহ্যে নদী এবং নৌকার একটি যোগসূত্র রয়েছে। নৌকা শুধু আমাদের বাহনই নয়, দেশের ঐতিহ্যের একটি অংশ। এই ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পর্যটন করপোরেশন মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ গয়না নৌকা দুটি সংসদের লেকে ভাসাচ্ছে। এতে চড়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিদেশি অতিথিরা লেক ভ্রমণ করতে পারবেন।’

জানতে চাইলে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রামচন্দ্র দাস বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটির দলীয় প্রতীক নৌকা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াতে নৌকার একটি ভূমিকা ছিল। এছাড়া নৌকা দেশের একসময়কার ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় বাহন। এসব বিবেচনা করে আমরা নৌকা দুটি মুজিববর্ষে তৈরি করেছি।’
বাংলাধারা/এফএস/এআর












