বাংলাধারা প্রতিবেদন »
চন্দনাইশ ও সীতাকুণ্ড থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে ৩০,৯৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব-৭। এ সময় মাদক পরিবহনে একটি মিনিট্রাক ও দুইটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে বিষয়টি জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া ) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। তিনি বলেন, র্যাব গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী একটি মিনি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য নিয়ে কক্সবাজার হতে ফেনীর দিকে আসছে।
সংবাদের ভিত্তিতে রাতে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানাধীন খানহাট এলাকায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে র্যাব। এ সময় র্যাবের চেকপোস্টের দিকে আসা একটি মিনি ট্রাকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা মিনি ট্রাকটিকে থামানোর সংকেত দেয়। কিন্তু মিনি ট্রাকটি র্যাবের চেকপোস্টের সামনে না থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে আসামি গাড়িটির চালক মো. ফারুক চালকের সহকারী মো. সেলিমকে আটক করে।
আটককৃতদের দেখানো ও সনাক্ত মতে মিনি ট্রাকের ভেতরে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থায় ১৯,৩০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মিনি ট্রাকটি (চট্ট-মেট্রো-ন-১১-৩৭৯৪) জব্দ করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তারা জানায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন যাবত কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের কাছে বিক্রয় করে আসছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ছিয়ান্নব্বই লক্ষ বায়ান্ন হাজার পাঁচশত টাকা এবং জব্দকৃত মিনি ট্রাকের আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা।
অপর একটি তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭ জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মোটরসাইকেল করে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য নিয়ে কক্সবাজার হতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা করছে। এই সংবাদে শুক্রবার দিনগত রাতে র্যাব-৭ এর একটি অভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন উত্তর বাঁশবাড়িয়া কানন গোমস্তার জামে মসজিদের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে।
এসময় র্যাবের চেকপোস্টের দিকে আসা দুটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা মোটরসাইকেল দুটিকে থামানোর সংকেত দিলে মোটরসাইকেল দুটি র্যাবের চেকপোস্টের সামনে না থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে আসামি মো. ইসমাইল (২৩) ও রাকিবুল ইসলাম রাহাতকে (২৪) আটক করে।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া ) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন আরও জানান, আটককৃত আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেখানো ও সনাক্তমতে মোটরসাইকেলের সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থায় ১২,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয় । মোটরসাইকেল দুটি (ঢাকা-মেট্রো-ল-৩৪-৬৮৭৬ এবং আরেকটি নম্বর বিহীন) জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের কাছে বিক্রয় করে আসছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা এবং জব্দকৃত মোটরসাইকেল দুটির আনুমানিক মূল্য তিন লাখ টাকা।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












