২০ মার্চ ২০২৬

মিরসরাই শিল্পনগরীতে বাড়ছে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হবে ৩০ লাখ লোকের

আকবর হোসেন রবিন  »

জীবদ্দশাতেই চট্টগ্রামের মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্পনগরীর (ইকোনমিক জোন) সুফল পাওয়ার দৃশ্য দেখে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

সম্প্রতি, শিল্পনগরীতে (ইকোনমিক জোন) দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। যার মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০ একর জমি লিজ নিবে বলে জানিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ম্যাকসন স্পিনিং লিমিটেড।

বুধবার (১১ নভেম্বর) কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, মিরসরাই শিল্প এলকায় দুটি জায়গায় ১০ একর করে মোট ২০ একর জমি আগামী ৫০ বছরের জন্য লিজ নিবে কোম্পানিটি।

সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্সসহ এই জমির মূল্য দাঁড়ায় ২৪ লাখ ২৮ হাজার ১১৬ ডলার বা ২০ কোটি ৬৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬০ টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)।

এর আগে করোনাকালে চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুখবর পেয়েছিল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। চীনা প্রতিষ্ঠান ইয়াবাং ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিংস গ্রুপ ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ১০০ একর জমি নিয়েছে। এ জন্য তারা টাকাও জমা দিয়েছে।

ইয়াবাং ১০০ একর জমিতে বস্ত্র খাতের রাসায়নিক, ওষুধের কাঁচামাল তথা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই) ও অন্যান্য রাসায়নিক উৎপাদন করবে। এ জন্য তারা জমি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। দীর্ঘ আলোচনার পর বিনিয়োগটি চূড়ান্ত হয়।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার। তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সৃষ্টি। বাংলাদেশের কৃষিকাজ হয় না, কোনো কাজে আসে না এমন জমিগুলোতে একশ’টি ইকোনমিক জোন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে পথচলা শুরু হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রতিষ্ঠার। মনেকরা হয় এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ইকোনমিক জোন।

তৎকালীন সময়ে এই প্রকল্প নিয়ে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মালয়েশিয়া বা অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মতো বিনোয়গে আকৃষ্ট করতে জমির দাম কমানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দেশকে এগিয়ে নিতে বিনোয়গকারীদের এক রিংগিতে এক একর জায়গা দিয়েছিলেন। আমাদের বেজার চেয়ারম্যানও প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে বললে তিনি ইকোনমিক জোন স্থাপন হওয়া এলাকাগুলোতে বিনিয়োগকারীদের জন্য জমির দাম ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় এরকম একটি শিল্পশহর প্রতিষ্ঠিত হলে মিরসরাই হবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শহর। পুরো কাজ শেষ হলে এখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৩০ লাখ লোকের।

করোনাকালে চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুখবর পাওয়া বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছি, এটা তারই সুফল হিসেবে দেখতে চাই। দেখা যায়, চীনের কোনো বড় প্রতিষ্ঠান একটি দেশে বিনিয়োগ করলে অন্যরাও উৎসাহিত হয়।’

‘বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে অবকাঠামোগত সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ৪০০ কেবির বিদ্যুৎ লাইনও বসানোর হচ্ছে।’

দেশে আরও একশ’টি এলাকায় এরকম অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশে অন্তত এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে এবং সমৃদ্ধির পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন