বাংলাধারা প্রতিবেদন »
অন্তরা ভেবেছিল রূপকথার রাজকুমারের মতো ভালোবাসার টানে পদ্মা-মেঘনা পার হয়ে চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসবে তার শন্তু। কিন্তু জীবন তো রূপকথা নয়, নয় কোন সিনেমা। বাস্তব জীবনে অনেক প্রেমিক শুধু প্রেমিকই থেকে যায়, এর বেশি এগুতো পারে না; শন্তুও এদের দলে।
শন্তু রূপকথার রাজকুমার হতে পারেনি, পারেনি হতে হিরো। তাই বলে কি অন্তরা থেমে থাকবে? অপেক্ষার প্রহর গুণে গুণে পার করে দিবে এক জীবন? না। একদমই না। সে থেমে থাকে নি। প্রেমের টানে ঠিকই পদ্মা-মেঘনা পার হয়ে চলে এসেছে প্রেমিক শন্তুর বাড়িতে।
এতোক্ষণ বলছিলাম অন্তরা সরকার (১৮) এর গল্প। যে কিনা বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শন্তু সরকারের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছে। একপর্যায়ে তিনি ঘুমের ওষুধও খেয়ে ফেলেন। ফলে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় তার হাত ব্যাগে কিছু ঘুমের ওষুধের খালি পাতা এবং তার পরিবারকে লেখা একটি চিঠিও পাওয়া যায়।
এমন এক ঘটনা ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বড় হায়াতপুর গ্রামে।
এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চাষারা এলাকার লিটন সরকারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে অন্তরা সরকার পরিবারের কাউকে না বলে বিয়ের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে তার প্রেমিক কচুয়া উপজেলার বড় হায়াতপুর গ্রামের সরকার বাড়ির পরেশ সরকারের ছেলে শম্ভু সরকারের বাড়িতে চলে আসে। এ সময় শম্ভুর ঘরে লোকজন না থাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মানিক হোসেন একই বাড়ির গ্রাম পুলিশ সুনীল সরকাররে ঘরে মেয়েটিকে আশ্রয় দেয়। এছাড়া তখন উৎসুক জনতা মেয়েটিকে একনজর দেখার জন্য ছেলের বাড়িতে ভিড় জমায়।
প্রেমিকা অন্তরা সরকার জানায়, আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে শম্ভু সরকার আমার সঙ্গে সম্পর্ক করে আসছেন। এরপর হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি আমি শম্ভুকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলে তিনি আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার কোনও প্রকার খোঁজ না পেয়ে আমি বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে এসেছি।
প্রেমিক শম্ভু সরকারের মা জানান, মেয়েটির সঙ্গে আমার ছেলের সম্পর্ক রয়েছে বলে আমরা জেনেছি। খবর পেয়ে আমার বড় ছেলে ঢাকা থেকে এসেছে। অন্যদিকে প্রেমিক শম্ভু সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শম্ভু সরকারকে তার বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাস শুভ জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি এবং মেয়েটিকে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশের হেফাজতে রাখার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে নির্দেশ প্রদান করেছি।
কচুয়া থানার অফসিার ইনর্চাজ মো. মহিউদ্দিন জানান, সংবাদ পেয়ে ছেলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গতকাল মেয়েটি ঘুমের ওষুধ খেয়েছে। তাই তাকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছে। মেয়ের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হয়েছে। বিষয়টি পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবো। এরপরও যদি আইনানুগ কোনও পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা তা নেব।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












