২০ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব এইডস দিবস আজ

বাংলাধারা প্রতিবেদন  »

আজ বিশ্ব এইডস দিবস। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘সারা বিশ্বের ঐক্য, এইডস প্রতিরোধে সবাই নিব দায়িত্ব’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকদের নেতৃত্বে আলোচনা সভা ও র‌্যালি হবে।

১৯৮৮ সাল থেকে এইডসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে এইডস আক্রান্তদের বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান ও এইডস প্রতিরোধে সামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এইডস নির্মূল করতে হলে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততা খুবই জরুরি।’ এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তিনি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা এবং গণমাধ্যমসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) এইচআইভি/এইডস বিষয়ক লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ হতে এইডস রোগটি নির্মূল করার জন্য জাতিসংঘের নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা এইডস নির্মূল করতে সক্ষম হবো। আমরা প্রতিটি এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ফলে সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে এইচআইভি সনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূলো এইডস এর চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’

জাতিসংঘের এসটিডি/এইডসবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএন এইডসের গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৫০০ জনেরই বয়স ১৫ বছরের নিচে। আক্রান্ত ৩২ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের নিচে, যার ২০ ভাগই নারী। আক্রান্তদের ৬১ ভাগ সাবসাহারা আফ্রিকান অঞ্চলে বসবাসকারী।
বর্তমানে বিশ্বে মোট এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ মিলিয়ন।

দেশে এ রোগে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৪২ জন। আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৫৭২ জন, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৮ জন, সিলেট বিভাগে ১ হাজার ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৬৬০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯২ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৬ জন, রংপুর বিভাগে ৬৮ জন রয়েছেন।
২০১৯ সালে নতুন করে ৯১৯ জন মানুষের শরীরে পজিটিভ এসেছে। আর এ বছর এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭০ জন।

চট্টগ্রামে বর্তমানে এইচআইভি এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮ জন।জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এসব রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র ৬ হাজার ৬০৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এইচআইভি এইডস ভাইরাসের অবস্থা পরিসংখ্যানগত ভাবে অনেক ভালো। তবে এটা যেকোন সময় খারাপ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে। এটা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের অনেক ভূমিকা রয়েছে।’ এইচআইভি‘তে আক্রান্ত জনগোষ্ঠী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার, ভ্রান্তধারণা ও বৈষম্য আছে তা দূর করতে হবে।’

বাংলাধারা/এফএস/ওএস

আরও পড়ুন