খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি »
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ গোমতি ইউনিয়নের কেশব মহাজনপাড়া, হাজাপাড়া, গকুলমনি ও মাখুমতৈছা। সেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাধারণ মানুষের বসবাস দারিদ্র সীমার নিচে। দুর্গম পাহাড়ী জনপদের চার গ্রামের পাঁচ শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে মাটিরাঙ্গার গোমতি গকুল মনি পাড়া থেকে অন্তত ছয় কিলোমিটার পাহাড়ী পথ পায়ে হেঁটে দুর্গম হাজাপাড়া এলাকায় গিয়েছেন ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।
শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালের দিকে দুর্গম পাহাড়ী জনপদ হাজাপাড়ায় পিছিয়েপড়া চার গ্রামের পাঁচ শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে পরম মমতায় উষ্ণতা ছড়িয়ে দিলেন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। শীতে কাবু বয়োবৃদ্ধ মানুষগুলোর গায়ে জড়িয়ে দিলেন মোটা কম্বল। এ সময় তিনি স্থানীয়দের মাঝে মাস্ক ও হাত ধোঁয়ার জন্য সাবান বিতরণ করেন।
টাকার অভাবে কম্বল কিনতে না পারা মাখুমতৈছা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী মনি কিশোর ত্রিপুরার কাছে একটি মোটা কম্বলই যেন পরম প্রাপ্তি। কম্বল হাতে নিয়েই প্রিয় নেতার জন্য দু‘হাত তুলে আশির্বাদ করলেন গকুলমনি পাড়ার বাসিন্দা শেফালি রানী ত্রিপুরা (৬০)। বললেন অভাবের সংসার। প্রচন্ড শীতে খুবই কষ্ট পেতাম। এ কম্বল কিছুটা হলেও উষ্ণতার ছোঁয়া দেবে। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি‘র হাত থেকে মোটা কম্বল পেয়ে আপ্লুত হাজাপাড়ার বয়োবৃদ্ধ হেমেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, এটা শুধু কম্বল নয়, এটা আমাদের জন্য আশির্বাদ।

দুর্গম জনপদের মানুষ বরাবরই বঞ্চিত ছিল মন্তব্য করে এমপি বলেন, পিছিয়েপড়া দুর্গম জনপদের শীতার্ত মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে পারাটা সৌভাগ্যের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার মা, তার নির্দেশে শীতার্ত মানুষের কল্যাণে আমাদের মানবিক কর্মতৎপরতা অব্যাহত থাকবে। দলের নেতাকর্মীসহ জনপ্রতিনিধিদের দুর্গম এলাকার শীতার্ত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে কম্বল বিতরণ করারও আহবান জানান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।
এসময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিরন জয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলী, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো:আলা উদ্দিন লিটন,মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো:দেলোয়ার হোসেন, গোমতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন লিটন, আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গনি ছাড়াও পিছিয়েপড়া চার গ্রামের কার্বারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












