বাংলাধারা প্রতিবেদন »
‘তরুণ প্রজন্মকে সমালোচনা করার মতো কোনো সুযোগ নেই।’ তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে বলা অ্যাডলাই-ই-স্টিভেনসনের এই উক্তিটি যেন সত্যেরই বহিঃপ্রকাশ। চিরকালব্যাপী তরুণ সমাজই অন্যায়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়িয়েছেন, নিয়েছেন বিশ্বকে পরিবর্তনের শপথ। বলা হয় তরুণেরাই জাতির ভবিষ্যত। যুব সমাজ প্রতিনিয়ত নতুন মুখ হিসেবে বিশ্বকে পরিবর্তন ও সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে আশার আলো জাগিয়েছে।
আর তা যদি হয় বাংলাদেশের যুবসমাজ তাহলে কথাই নেই। ঠিক সেই সমস্ত তরুণদেরই একজন বাংলাদেশের এস এম সামমাম সাকতি ইবনে সাহাদাত। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘ইউনাইট ২০৩০- ইয়ূথ অ্যাকশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড’ গ্লোবাল ক্যাম্পেইনে তারই প্রমাণ দিলেন তিনি। বিশ্বের ৩৩ টি দেশের ১২০০ চেয়ে বেশি সংখ্যক তরুণ যুবকর্মীদের পেছনে ফেলে ৯৯ টি অ্যাকশন ও ২৬৬০ পয়েন্ট অর্জন করে ‘মোস্ট অ্যাসপিরিন ইয়াং আক্টিভিটিস্ট ’ এর টাইটেল অর্জন করেছেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী কানাডা, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় ৩৩ টি দেশের তরুণ যুবকর্মী ও তরুণ নেতা এই গ্লোবাল ক্যাম্প এ অংশ নেয়। ‘ইউনাইট ২০৩০’ সংস্থা ‘ইউনাইট ২০৩০ ইউথ আকশন ফর গ্লোবাল ওয়ার্ল্ড’ নামক ক্যাম্পেয়িন এর আয়োজন করে থাকে। যেটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো তে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা পরিস্হিতি বিবেচনায় এইবার প্রতিযোগিতা কার্যক্রম অনলাইন মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়, যেখানে যুবকর্মীরা নিজ নিজ দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সাস্টেইনএবল ডেভেলপমেন্ট গোলস অর্জনের জন্য কাজ করে থাকেন এবং তাদের নেওয়া পদক্ষেপের রিপোর্ট নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট এর মাধ্যমে জমা দিয়ে থাকে।
জমা দেওয়া রিপোর্ট যাচাই বাছাই ভিত্তিতে দেওয়া হয় পয়েন্ট। আর সর্বাধিক পয়েন্ট অর্জনকারীদেরকে ‘মোস্ট আস্পিরিন ইয়াং এক্টিভিটিস্ট ওব ইউনাইট ২০৩০’ টাইটেল এর পাশাপাশি ‘ক্যাম্প ২০৩০’ নেতৃত্ব প্রদানের সম্মাননা দেওয়া হয় ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফুটবল ক্লাব চেলসা’, ‘ইউএন ৭৫’ সহ বিশ্বজুড়ে আরও নামী সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত ‘ক্যাম্প ২০৩০’ এ বিশ্বব্যাপী ৩৩ টি দেশের সেরা ২৫০ এর চেয়ে বেশি সংখ্যক তরুণ নেতাদের নেতৃত্ব দিবেন বাংলাদেশের ইবনে সাহাদাত।
সামমামের শৈশব কৈশর প্রায় সবই কেটেছে ঢাকার মিরপুরে। পড়ালেখা সম্পন্ন করেছেন শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ। বাবা এস এম সাহাদাত হোসেন ছিলেন অংক বিভাগের প্রফেসর। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ডাক্তার বানানোর। সামমামের স্বপ্নও ছিল তাই। কিন্তু ২০১৮ সালে তার বাবা মারা যাবার কারণে সবকিছু প্রায় নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণায় মা রত্না পারভিন রুপা হয়ে উঠেন মূল চালিকাশক্তি। মা এর ইচ্ছাতে এখন তিনি পড়াশুনা করছেন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে।

সামমাম সাকতি বলেন, ‘মানুষের জীবন মাত্রই পরিবর্তনশীল। মানুষ জীবনে অনেক স্বপ্ন দেখে সেটা হয়তো কখনও সত্যি হয় আবার কখনও সম্ভব হয় না। তাই বলে থেমে থাকা যাবে না। নিজের অদৃষ্ট কে আমি মেনে নিয়েছি। নতুন করে স্বপ্ন দেখি নাসার এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হবার।’
সফলতার পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে সামমাম বলেন, ‘এখানে অবশ্যই আমার মায়ের কথা বলতে হবে। মা এর অনুপ্রেরণাই মূলত আমার বড় অনুপ্রেরণা। বাবা মারা যাবার পর থেকে মা’ই সাহস যুগিয়েছেন। সবসময় দেশের জন্য ,মানুষের জন্য কাজ করতে। আমিও সেটাই চাই।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাহাদাত বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনও প্রায় ২৫℅ মানুষ নিরক্ষর আছেন। আর আমি বিশ্বাস করি শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আমি চাই আমাদের দেশের তরুণ যুবসমাজকে সাথে নিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার আলোকে শিক্ষিত করা।’
সামমামের গল্প শুরু হয়েছিল আজ থেকে দুই বছর আগে ‘অনলাইন মডেল ইউনাইটেড ন্যাশন্স’ এর ভলয়েন্টিয়ার হিসেবে অংশগ্রহনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে অসাধারণ নেতৃত্ব ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে সামমাম এসডিজি- ৪ (কোয়ালিটি এডুকেশন) নিয়ে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ছাত্রসংস্থ্যা ‘আইসেক’এ ইপি হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

সামমাম সাকতি নেতৃত্বগুণাবলীর পাশাপাশি গবেষণাতেও নিজেকে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে চান। বর্তমানে তিনি ‘ভূমিকম্পের পুর্বাভাস দানকারী তত্ত্ব’ নিয়ে গবেষণা করছেন। যে তত্ত্ব সফল হলে হয়ত ভূমিকম্পের দুই সপ্তাহ আগে দুইবার সংকেত পাওয়া সম্ভব। এছাড়া তিনি ভবিষ্যতে নাসার এরোস্পেস ইন্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে তৈরী করবার ইচ্ছা পোষণ করেন। সে লক্ষ্যে তিনি বর্তমানে ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং’ নিয়ে অধ্যায়নরত আছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












