কক্সবাজার প্রতিনিধি »
সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে টেকনাফ ফেরার পথে শতাধিক পর্যটক নিয়ে সাগরে বিকল হওয়া জাহাজের পর্যটকরা। সোমবার সকালে স্পীড বোট ও কাঠের ট্রলারে টেকনাফ ফিরেছে জাহাজের অর্ধশতাধিক যাত্রী। বাকিরা পর্যটক নিয়ে দ্বীপে যাওয়া অন্য জাহাজে করে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। সোমবার বেলা ২টার দিকে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রবিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে টেকনাফ ফেরার পথে সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরে এস টি ভাষা শহীদ সালাম নামে পর্যটকবাহি জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়। বিকল ইঞ্জিন ঠিক করার তালবাহানায় প্রায় তিন ঘন্টা ভাসন্তই রাখে জাহাজ সংশ্লিষ্টরা। জাহাজটি ধীরে ধীরে মিনানমার জলসীমার দিকে ভেসে যাচ্ছে দেখে আতংকিত পর্যটকদের মাঝে কয়েকজন জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চান। পরে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় সাগরে ভাসমান জাহাজ থেকে আতংকিত পর্যটকদের সন্ধ্যার দিকে কাঠের বোটে তীরে আনা হয়।
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে এস.টি ভাষা শহীদ সালাম জাহাজটি চলতি মৌসুমে রবিবারই প্রথম আড়াই শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন যাত্রা শুরু করে। শতাধিক পর্যটক রাত্রিযাপনের জন্য থেকে গেলে বাকি শতাধিক যাত্রী নিয়ে টেকনাফ ফেরার পথে এ দুর্ভোগে পড়ে তারা।
ঢাকার পর্যটক আবদুর রহমান জানান, ভয়াবক অভিজ্ঞতা হয়েছে পরিবার নিয়ে সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে। মাঝ সমুদ্রে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকলের কত প্রতিবেদন পড়েছি। কিন্তু নিজেদের ভাগ্যেও বিষয়টি ঘটবে কল্পনায়ও ছিল না। চরম ভয় পেয়েছিলাম বিকল জাহাজ যখন ভাসন্ত অবস্থায় ছিল। এরপরও শৃংখলা বাহিনীর তত্বাবধানে আমরা দ্বীপে রাত্রি যাপন করেছি। জরুরি ঢাকা ফেরার তাড়া থাকায় কোস্টগার্ডের ব্যবস্থাপনায় কাঠের ট্রলারে টেকনাফ ফিরে এখন ঢাকার পথে রয়েছি। আমাদের সাথে অনেকে এসেছেন, অনেকে এসেছেন স্পীড বোটে। বাকিরা ট্রলারে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তার মতে, ইঞ্জিন বিকল হয়ে জাহাজ নিয়ে বঙ্গোপসাগরে তিন ঘন্টা ভাসমান থাকাকালীন ৯৯৯-এর সহযোগিতা না পেলে হয়ত আমরা মিয়ানমার জলসীমা অতিক্রম করে সেদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হতাম। পর্যটন শিল্প বিকাশে সেন্টমার্টিন নৌ-পথে এমন লক্কর ঝক্কর জাহাজ চলাচল বন্ধ করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসটি ভাষা শহীদ সালাম জাহাজের তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ইঞ্জিন চালিত বাহনের বিকল হওয়া নিয়ে কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না। আটকে যাওয়া পর্যটকদের আবাসন ও পরিবহণ খরচটা আমরাই বহন করেছি। কোস্টগার্ড ও অন্য শৃংখলা বাহিনীর নির্দেশনা ও তত্বাবধানে এসব বহন করা হয়েছে। বিকল জাহাজ মেরামতে চট্টগ্রাম থেকে প্রকৌশলী আনা হয়েছে। এখনো (সোমবার বিকাল আড়াইটা পর্যন্ত) সফলতা আসেনি। আসা করছি সন্ধ্যার আগে জাহাজ সচল হবে। অন্যদের নিয়ে ত্রুটি সারার চেষ্টার কমতি করিনি। কিন্তু শেষমেষ পারিনি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, বিকল জাহাজের যাত্রীরা প্রশাসনের তত্বাবধানে দ্বীপে অবস্থান করেছে। যারা যেভাবে যেতে চেয়েছেন সকাল থেকে তাদের সেভাবে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেহেতু জাহাজটি এখনো সারেনি বাকি যাত্রীদের দ্বীপে আসা ভিন্ন জাহাজে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












