কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুচ্ছ ঘটনায় ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) অফিসের এক স্বেচ্ছাসেবককে (সিপিসি সদস্য) অপহরণ করেছে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা। উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক ডি-৪ থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অপহৃতকে উদ্ধার করেন আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা।
বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে শফিউল্লাহ কাটা এ/১ ব্লক থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
অপহৃত মোহাম্মদ হোসেন (৪৫) টেকনাফ সদর ৬ নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়ার মো. কাশেমের ছেলে। তিনি কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় নিয়োজিত ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) কমিটির স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শফিউল্লাহ কাটা এ/১ ব্লকে কর্মরত ছিলেন।
অপহরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প নং-১৬ শফিউল্লাহ কাটার হেড মাঝি মো. তাহের (৩২)কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ক্যাম্পের ব্লক-এ/১ এর আবুল বাশারের ছেলে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ১৬ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (এসপি) মো. হেমায়েতুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসপি হেদায়েতুল জানান, বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কয়েকজন রোহিঙ্গা মিলে সিপিপি মোহাম্মদ হোসেনকে অপহরণ করে। স্বজনদের পক্ষ থেকে ঘটনাটি এপিবিএনকে জানানো হয়। এরপর ভিকটিমকে উদ্ধারে এপিবিএন ক্যাম্প সহকারি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি একেএম খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে ক্যাম্প ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মহিবুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে নানামুখি তৎপরতায় দীর্ঘ ৮ ঘন্টার মাথায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। অপহরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প নং-১৬ শফিউল্লাহ কাটার হেড মাঝি মো. তাহের (৩২)কে গ্রেফতার করা হয়। পরে, ক্যাম্প সিআইসির নির্দেশে গ্রেফতার রোহিঙ্গা মাঝিকে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অধিনায়ক মো.হেমায়েতুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে নিজদেশ মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরো আসে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে উখিয়া-টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর পাহাড়ি ভূমিতে ৩৪টি ক্যাম্প তৈরি করে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার তাদের সকল ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে৷ এরমাঝে কিছু রোহিঙ্গা নানা ভাবে অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে। তারা অপহরণ, খুন, ডাকাতি, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপকর্ম করছে। এ সংক্রান্ত অনেক মামলায় কারাগারে রয়েছে অনেক রোহিঙ্গা। সিপিসি সদস্য অপহরণও এসব ঘটনার একটি।
উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, ক্যাম্পের এক স্বেচ্ছাসেবক অপহরণের ঘটনায় রোহিঙ্গা মাঝি গ্রেফতার রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
বাংলাধারা/এফএস/এইচএফ












