মিরসরাই প্রতিনিধি »
ইয়েমেনে হাউথি বিদ্রোহীদের হাত থেকে ১০ মাসের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন মিরসরাইয়ের ৪জন সহ পাঁচ নাবিক। সরকার তাদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
রবিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমান যোগে তাঁরা ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন।
এরা হলেন উপজেলার ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ইছাখালী গ্রামের চুনিমিঝির টেক এলাকার নুর মোহাম্মদের পুত্র আলা উদ্দিন (৩৭), একই ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকার নুরুল আবছারের পুত্র মোঃ আলমগীর (৩৪), ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের পুত্র মোঃ রহিম উদ্দিন ও একই ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের এবায়েত উল্লার পুত্র মোহাম্মদ ইউসুফ। এছাড়া রাউজনের আবু তৈয়ব। তাঁরা সবাই ওমানের মাছিরা নামের একটি জাহাজ কোম্পানিতে কাজ করতেন। সৌদি আরবে নির্মাণকাজের উদ্দেশ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁরা ওমান থেকে যাত্রা করেছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, যাত্রাপথে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে এই নাবিকেরা লোহিত সাগরে একটি জাহাজডুবির খবর পান। জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধারে ২০ জন নাবিক (বিদ্রোহীদের হাতে আটকে পড়া) ইয়েমেনের উপকূলে নোঙর করেন। পরে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয় দিয়ে একদল লোক ২০ নাবিককে রাজধানী সানায় নিয়ে যান। পরে জানান, তাঁরা হাউথি বিদ্রোহী।
ফিরে আসা নাবিক মোঃ আলা উদ্দিন জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি ইয়েমেনের বাবলমন্ডল এলাকায় তাঁরা ঝড়ের কবলে পড়ে। এসময় তাদের বহন করা ডানাচিষ নামক জাহাজটি ডুবে যায়। তাঁরা তাৎক্ষনিক সে জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। এসময় হঠাৎ ইয়েমেনের বিদ্রোহী গ্রুপ হাউথির লোকজন কোস্টগার্ড পরিচয় দিয়ে কয়েশ রাউন্ড গুলি চালিয়ে দুই জাহাজে থাকা ২০জনকে অপহরণ করে। পরবর্তিতে আল রাইয়া ও ফরিদা থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে আমাদের গাড়ি করে ১৪শ কিলোমিটার দুরে নিয়ে সানাইয়ে একটি হোটেলে বন্দি করে রাখে। এসময় আমাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন টাকা পয়সা সব ছিনিয়ে নেয়। এরপর থেকে আমাদের ওই হোটেলে বন্দি করে রাখে। এভাবে প্রায় ৩ মাস চলে গেছে। ২৪ ঘন্টায় শুধু এক বোতল পানি আর বাচালিয়া (ইয়েমেনি খাবার) দেয়।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলমগীর জানান, সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের ইয়েমেনের আদালতে তোলা হয়। আদালতের মাধ্যমে আমরা ছাড়া পেয়েছি। তবে ইয়েমেনে বাংলাদেশী দূতাবাস না থাকায় কিছুতেই দেশে ফিরতে পারছি না। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়, কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাস, জর্ডান দূতাবাসের সহযোগীতায় ১৮ নভেম্বর হোটেল থেকে মুক্তি পেয়েছি। এরপর আমাদের ইয়েমেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর ইয়েমেনের আডান নামক শহরে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর ৯ জানুয়ারি ইয়েমেন থেকে যেবতি। যেবতি থেকে দুবাই, দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসে পৌছায়।
ভুক্তভোগী রহিম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রথমে দেশে ফিরে আসার কথা চিন্তাও করতে পারিনি। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগীতায় দীর্ঘ ১০ মাস বন্দি জীবন শেষে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের কাছে ফিরতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কোম্পানীর মালিক আমাদের কোন খবর রাখেনি। অর্ধহারে, অনাহারে আমাদের দিন কেটেছে। আমাদের প্রায় এক বছরের বেতন বকেয়া রয়েছে। আমরা পররাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে আমাদের পাওয়া বেতন দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।
রহিম উদ্দিনের মামা মোঃ নুর হোসেন বলেন, আমার ভাগিনা সহ সবাইকে নিয়ে অনেক টেনশনে ছিলাম। কিভাবে কখন তাঁরা দেশে ফিরবে এনিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। পরে সরকারের সহযোগীতায় তাঁরা দেশে ফিরেছে।
এদিকে মিরসরাইয়ের ৪ জন জিম্মিদশা থেকে বাড়িতে ফিরে আসায় পরিবারের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
বাংলাধারা/এফএস/এইচএফ












