১৯ মার্চ ২০২৬

মাদকের গতি না থামলে দেশের উন্নয়ন যাত্রা থমকে যেতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেছেন, মাদক সামাজিক ব্যাধী। এটি নিজের জীবনের সাথে একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা দুর্বার গতিতে চলছে। মাদক নিরোধ সম্ভব না হলে দেশের উন্নয়ন যাত্রা থমকে যেতে পারে।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়ন সদর দপ্তর প্রশিক্ষণ মাঠে ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সে নীতিতে কাজ করছে সরকার। মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। এতে পরিবার ও একটি দেশ ধ্বংস স্তপে পরিণত হয়। তাই মাদকের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তাদের বিচার কার্য সম্পন্ন করা হলে বাকিরাও সতর্ক হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ-বিজিবি-কোস্টগার্ড-মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। মাদক নির্মূলে কঠোর হয়ে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলকে শপথ নিতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার। সিদ্ধান্ত নিতে হবে সমাজে যেন মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী স্থান না পায়। এ দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করা সম্ভব হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মতে, সন্ত্রাস, জঙ্গী দমনে যেমন আমরা সফল হয়েছি-মাদক নির্মূলেও সফল হতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে, আমরা সফল হবো। আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হবো। এ জন্য একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নতুন প্রজন্ম পথ হারিয়ে ফেলবে।

স্বাগত বক্তব্যে বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজেদুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরোটলান্স নীতি অনুসরণে বিজিবি জব্দ করা বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রকারের মাদক ধ্বংস করা হয়েছে। এতে ক কোটি ৭৭লাখ ৭৫ হাজার ৬২৫পিচ ইয়াবা, ৫ হাজার ৭৯৯বোতল বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ৩৩ হাজার ৫৫৫ক্যান বিয়ার, এক হাজার ৭৩৬লিটার বাংলা মদ, ১৬কেজি গাঁজা, ১৮হাজার ৭৫০পাতা সিডিল ট্যাবলেট, ৫ হাজার পাতা জুলিয়াম ট্যাবলেট ধংস করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে, ৫৩৫কোটি ৫লাখ টাকা।

অনুষ্ঠানে ২০১৮থেকে ২০২০সাল পর্যন্ত বিজিবি কক্সবাজারের রিজয়নের আওয়াতায় বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক জব্দ করা মাদকের হিসাবও দেয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত তিন বছরে মালিকসহ ৯১লক্ষ ৬২হাজার ইয়াবা,তিনহাজান ৮৩৭৩ক্যান বিয়ার,১১৯ বোতল বার্মিজ মদ, ৪৩লিটার বাংলা মাদ,১কেজি গাজা,৩৮১বোতল ফেন্সিডল জব্দ করা হয়। এ ছাড়াও মালিক বিহীন জব্দ হয়েছে, ২কোটি ২৫লাখ ১২হাজার ইয়াবা, ৩৭হাজার ৬৫৮ক্যান বিয়ার, ৫৩৫ বোতল বার্মিজ মদ, ২হাজার ৬ লিটার বাংলা মদ, ৩০কেজি গাজা, ১৫শ ২৪বোতল ফেন্সিডল জব্দ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল ফোরকান আহমেদ, আওয়মী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তাফা, কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটিসহ সামরিক-বেসামরিক, বিচার বিভাগ ও শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চেকপোস্টের কার্যক্রমের উপর ডেমো ও রিজিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, গত ৩ বছরে ইয়াবা উদ্ধারের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টর। তারা ৩ বছরে মোট ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

বাংলাধারা/এফএস/এইচএফ

আরও পড়ুন