১৯ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন নির্বাচন কাল

বাংলাধারা প্রতিবেদন  »

ব্যাপক প্রচার- প্রচারণার পর আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন (বিএসএএ) নির্বাচন। দ্বি- বার্ষিক (২০২১- ২৩) এই নির্বাচনে জয়ী হতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলই বেশ আটসাঁট বেঁধেই এবার মাঠে নেমেছেন।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হোটেল আগ্রাবাদের ইছামতি হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

বিএসএএ’র নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্যানেল লিডার সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ এবং আহবায়ক ওসমান গনি চৌধুরী ও ইকবাল আলি (শিমুল) এবং শাহেদ সরওয়ার প্যানেলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্যানেল লিডার শাহেদ সরওয়ার।

সম্মিলিত পরিষদের নেতারা এবারের নির্বাচনে বন্দরের বে পাইলটিং কার্যক্রম স্থগিতের ইস্যুটি সামনে এনে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। তারা ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠকে বলেছেন, বন্দরের বে পাইলটিং কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার নেপথ্যে শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন ভূমিকা রাখায় এই সংগঠনে শাহেদ সরওয়ার নিজের প্রভাব তৈরি করতে চাইছেন। প্রকৃতপক্ষে সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের আপত্তির মুখেই বে পাইলটিং কার্যক্রম সম্প্রতি স্থগিত হয়।

সাহেদ সরওয়ার প্যানেলের পক্ষে এবার সরাসরিই মাঠে নেমেছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ড. পারভেজ সাজ্জাদ আকতার। বে পাইলটিং কার্যক্রমে পাইলটিংয়ে বন্দর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করেছিলো সেখানে তার (ড. পারভেজ) স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া সাহেদ সরওয়ার প্যানেলের প্রার্থী আজিম রহিম চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানও ছিল ওই তালিকায়। এ কারণে এবারের নির্বাচনে সাহেদ সরওয়ার প্যানেলকে জয়ী করতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন তিনি। সাবেক সভাপতির বেশ কিছু ভোট পড়বে সাহেদ সরওয়ার প্যানেলে।

নির্বাচনে জয়ী হতে এবার দুই পক্ষই বেশ আটসাট বেঁধে নেমেছে। সাহেদ সরওয়ার প্যানেলের পক্ষে এবার সরাসরিই মাঠে নেমেছেয সংগঠনের সাবেক সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ আকতার। বন্দরের বে পাইলটিং কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার নেপথ্যে শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন ভূমিকা রাখায় এই সংগঠনে নিজের প্রভাব তৈরি করতে চাইছেন। সম্প্রতি সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের আপত্তির মুখে বে পাইলটিং কার্যক্রম সম্প্রতি স্থগিত করা হয়। বে পাইলটিংয়ে বন্দর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করেছিলো যেখানে তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া সাহেদ সরওয়ার প্যানেলের প্রার্থী আজিম রহিম চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানও ছিল ওই তালিকায়। এ কারণে এবারের নির্বাচনে সাহেদ সরওয়ার প্যানেলকে জয়ী করতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন তিনি। সাবেক সভাপতির বেশ কিছু ভোট পড়বে সাহেদ সরওয়ার প্যানেলে।

এদিকে, শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নির্বাচনে এবার ভুয়া টিআইএন সনদ দিয়ে ভোটার করার অভিযোগ ওঠেছিল। সম্মিলিত পরিষদের আহ্বায়ক ওসমান গনি চৌধুরী বিষয়টি নির্বাচন বোর্ডে অভিযোগ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। অর্থ্যাৎ এই ভোটগুলো সাহেদ সরওয়ার প্যানেলের পক্ষেই যাচ্ছে।

সম্মিলিত পরিষদের এসোসিয়েট ক্যাটাগরির প্রার্থী খায়রুল আলম সুজন বলেন, সদস্যদের প্রয়োজনে বোর্ডে আমরা সংখ্যালঘু হয়েও বে পাইলট স্থগিত করাসহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সফলভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সবসময় সোচ্চার ছিলাম।

তিনি আরো বলেন, সম্মিলিত পরিষদ নির্বাচিত হলে এসোসিয়েশনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সম্মিলিত পরিষদ ১১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। কারও ব্যক্তিস্বার্থের জন্য সংগঠনকে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার বলে ভোটারদের জানাচ্ছেন। কনটেইনার, ব্রেক বাল্ক, ট্যাংকারসহ শিপিংয়ের সব খাত থেকেই তারা সক্রিয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে প্রার্থী করেছেন বলে দাবি করছেন।

অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহেদ সরওয়ার প্যানেল নির্বাচনী ইশতিহারে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং এসোসিয়েশনকে একীভূত করা, এসোসিয়েশনের নিজস্ব অফিসের ব্যবস্থা করাসহ শিপিং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ জন্য ১৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

দুই প্যানেলই নির্বাচনকে ঘিরে যত কৌশলই গ্রহণ করুক না কেন শেষ পর্যন্ত সচেতন ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নিবেন কারা আগামী দিনে এই সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন।

নির্বাচনী বোর্ড সূত্র জানায়, এবার শিপিং এজেন্টস নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬৭। এদের মধ্যে অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে ১৪৫ এবং এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ১২২ ভোটার রয়েছে। এই ভোটারেরা পছন্দ অনুযায়ী অর্ডিনারি ক্যাটাগরি থেকে ১৬ জন এবং এসোসিয়েট ক্যাটাগরি থেকে ৮ জন দুই ক্যাটাগরি থেকে মোট২৪ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন। নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতিসহ নেতৃত্ব গঠন করা হবে।

প্রসঙ্গতঃ শাহেদ সরওয়ার প্যানেলে অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে যাঁরা রয়েছেন তারা হলেন, মোহাম্মদ শাহেদ সরওয়ার (ক্রাউন নেভিগেশন), দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য (বাংলাদেশ শিপিং লাইন্স), এম আলী আশরাফv আহমদ খান (বারিধি শিপিং), এ এস এম সালাহউদ্দিন (কসকো শিপিং), মোহাম্মদ শাহীন (এভারবেস্ট শিপিং), মো. দিদারুল আলম চৌধুরী (গ্লোব শিপিং), কপিল উদ্দিন আহমেদ (জেএস শিপিং), গোলাম ফারুক (কে লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড), আনিস উদ দৌলা (কর্ণফুলী লিমিটেড), আজিম রহিম চৌধুরী জিয়া (কেএমসি শিপিং লাইন), মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (মমতাজ শিপিং), মো. আজমির হোসেন চৌধুরী (এমএসসি মেডিটেরিয়ান শিপিং), এনামুল হক (মাল্টিপোর্ট লিমিটেড), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জহির (পিআইএল বাংলাদেশ), সরতাজ মো. ইমরান (সিমনি শিপিং) এবং কামরুজ জামান লিটন (সুলতান শিপিং)।

এছাড়া, এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে রয়েছেন, মোহাম্মদ মোরশেদ হারুন (এনসিয়েন্ট স্টিমশিপ কোম্পানি), মোহাম্মদ সাইফুল কাদের (কলাম্বিয়া এন্টারপ্রাইজ লি.), ক্যাপ্টেন মুনতাসের মোহাম্মদ ইকবাল (ডেল্টা লয়েড লি.), কাজি মনসুর উদ্দিন (কেএসএম শিপিং এজেন্সিজ), মোস্তাফিজুর রহমান (মদিনা লজিস্টিক্স এন্ড শিপিং), ক্যাপ্টেন সালাহ উদ্দিন চৌধুরী (নাফ মেরিন সার্ভিস), ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবুল খায়ের (রিলায়েন্স শিপিং) এবং
মো. জহিরউদ্দিন জুয়েল (সি গ্লোরি শিপিং)।

অপরদিকে সম্মিলিত পরিষদ প্যানেলে অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে আছেন, সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ (এমস ইন্টারন্যাশনাল লি.), সৈয়দ ইকবাল আলী (শিমুল) (এমজিএইচ গ্রুপ), ওসমান গনি চৌধুরী (ইউ.এস. লাইনস ওভারসিস লি.), মো. আজফর আলী (সারাফ গ্রুপ অব কোম্পানি), মামুনুর রশিদ (মানুমা শিপিং লাইনস লি.), এস এম মাহবুবুর রহমান (বিএস কার্গো এজেন্সিস লি.), আবু খালেদ মোহাম্মদ শাকিল আহসান (ওশান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেস বাংলাদেশ লি.), ক্যাপ্টেন সৈয়দ সোহেল হাসনাত (ফনিক্স শিপিং লি.), মো. সাজ্জাদুর রহমান (ইনেসক্যাপ শিপিং লাইনস লি.), মুনতাসির রুবাইয়্যাত (জিবিএক্স লজিস্টিকস লি.), এ টি এম শহিদুল্লাহ (শহিদ) (এসকেপ বাংলাদেশ লি.), মোহাম্মদ আসিফ ইফতেখার হোসাইন (ইভরেট বাংলাদেশ প্রা. লি.), শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী (স্পেক্টরাম ইন্টারন্যাশনাল), মুহাম্মদ জিয়াউল কাদের (পেনিনসুলার শিপিং সার্ভিসেস লি.), তানজিল আহমেদ রুহুল্লাহ (ইন্টারপোর্ট মেরিটাইম লি.), এস এম এনামুল হক (বেঙ্গল শিপিং লাইন্স লি.)।

এছাড়া এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে আছেন, ওয়াহিদ আলম (আল্ট্রা-মেরিটাইম-সার্ভিসেস লি.), খায়রুল আলম সুজন (ইএএস লিমিটেড), মোহাম্মদ শফিকুল আলম জুয়েল (রেডিয়েন্ট শিপিং লি.), শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (মিনার) (গ্লাক্সি লাইন্স লি.), প্রবীর সিংহ (এলিট শিপিং লাইন্স), রিয়াজ উদ্দিন খান (কসকল শিপিং লাইন্স লি.), নজরুল ইসলাম (প্রাইড শিপিং লি.), নাজমুল হক (এ এন্ড জে ট্রেডার্স)।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন