১৯ মার্চ ২০২৬

নামের মিল থাকায় নিরপরাধ যুবককে আটকের অভিযোগ

আনোয়ারা প্রতিনিধি  »

আনোয়ারা উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী রুবেল দাশের মারধরে রুপন আচার্য্য (৩৫) নামে এক যুুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে পাঁচটায় চাতরী ইউনিয়নের কৈনপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় রুপনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঐদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মারধর করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে প্রথমে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। নিহত রুপনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রুপনের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী রুবেল দাশ। তার বাড়িতে গিয়ে তার ভাই সুমনকেও পাওয়া যায়নি। গতকাল রাত সাড়ে তিনটায় পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে রুবেল দাশের ভাই সুমনের পরিবর্তে স্থানীয় নিরপরাধ অপর এক সুমনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

সরেজমিনে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কৈনপুরা এলকার মাদক ব্যবসায়ী শংকর গত দুই মাস আগে র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে জেল হাজতে আছেন। বর্তমানে তার দুই ভাই সুমন দাশ ও রুবেল দাশ তার মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। গত ৭ এপ্রিল ভোরে রুবেল দাশের কাছে পাওনা তিনশত টাকা চাইতে গেলে সে নিহত রুপনকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে রুপন। পরে তাকে স্বজনরা আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে হত্যাকারী রুবেল দাশের ভাই সুমন দাশ মনে করে গতকাল রাত সাড়ে তিনটায় স্থানীয় ভক্তের ছেলে প্রবাস ফেরত সুমনকে ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

আাটক সুমনের মা নীলা বলেন, আমার ছেলে দেড় বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে এসেছে। এ ঘটনার কিছুই সে জানেনা। রুপনকে যে মেরেছে তার ভাই একজনের নাম সুমন আছে। রুবেলের ভাই সুমন মনে করে আমার ছেলেকে গভীর রাতে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আমি আমার নিরপরাধ সন্তানকে ফেরত চাই।

আটক সুমনের স্ত্রী সীমা জানান, আমার স্বামী যদি ঘটনার সাথে জড়িত থাকত তাহলে সে বাসায় থাকত না। পুলিশ আসলে আমার স্বামী নিজেই দরজা খুলে দেয়। পরে তাকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

রুবেলের ভাই সুমনের স্ত্রী কমলা বলেন, ঘটনার পর আহত রুপন আমার কাছে পানি চায়। আমি তাকে পানি খেতে দিই। পুলিশ যাকে আটক করেছে সেই সুমন ঘটনার সাথে জড়িত ছিলনা। আমার স্বামীও শহরে ছিল। খবর পেয়ে সে বাড়িতে এসে আমার দেবর রুবেলকে অনেক বকাঝকা করেছে।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার রুপন হত্যায় সুমন নামের একজনকে আটক করার কথা স্বীকার করে বলেন,সুমনের পরিবার জড়িত নেই বললেই তো হবেনা।

বাংলাধারা/এফ/এআর

আরও পড়ুন