১৯ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে প্রথম চাষেই চিনা বাদামের বাম্পার ফলন

শেখ সালাউদ্দিন, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :::

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় মুখোরচক খাবার দেশীয় চিনা বাদাম ছোট বড় সবারই খুব পছন্দের খাবার। স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। শুধু তাই নয় বাদামে রযেছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। প্রতিদিন এক মুঠো চিনা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে পারলে শরীরের কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পার্কে অথবা যে কোনো স্থানে বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে বাদাম খেতে ভাল বাসেন না এম মানুষ খুব কমই আছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীতাকুণ্ড উপজেলায় চলতি বছর প্রথম বারের মত ৫টি ইউনিয়নে দেশীয় ঢাকা-১ জাতের চিনা বাদামের চাষ করেছে কৃষক। এখানকার মাটির গুণাবলি ভাল এবং বাদাম চাষে উপযোগী বলে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মনে করছেন ছোট কুমিরা এলাকার কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, তার কৃষি জীবনে এর আগে কখনও চিনা বাদামের চাষ করেন নি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনা মূল্যে ঢাকা-১ জাতের ১৫ কেজি চিনা বাদাম সংগ্রহ করে ২৬ জানুয়ারি মাসে বীজ বোপন করেন। পরিস্থিতি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার চাষকৃত চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। ৩৩শতক জমিতে বাদাম উৎপাদন হয়েছে ১৫০ কেজি।

তিনি বলেন, কৃষি জীবনে এ প্রথম আমি চিনা বাদামের চাষ করেছি। এ এলাকায় আগে কেউ বাদামের চাষ করেনি। আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ করার আশা আছে। আমার মত অন্যান্য কৃষকরা পুষ্টিকর খাবার বাদামের চাষ করলে তারাও লাভের মুখও দেখতে পারবেন । বিনা মূল্যে বাদাম বীজ সংগ্রহ এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন।

এ এলাকায় দায়িত্বে থাকা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা সুজন কান্তি ঘোষ বলেন, কৃষক রফিক বিনা মূল্যে কৃষি অফিস থেকে ১৫ কেজি চিনা বাদাম ঢাকা-১ জাত সংগ্রহ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৩৩ শতক জমিতে বীজ রোপন করেন। বর্তমানে তার জমি থেকে ১৫০ কেজি বাদাম উৎপাদন হয়েছে। কোনো বাদাম নষ্ট হয়নি। চিনা বাদাম চাষে এখানকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়াও বাদামের ফলন দেখে অন্যান্য কৃষকরাও বাদাম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

এবিষয়ে উপজেলা সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রতন কান্তি দত্ত বলেন, হালকা বেলে দোঁআশ মাটিতে চিনা বাদাম চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। সীতাকুণ্ডে চিনা বাদামের উৎপাদন ভাল হওয়ায় কৃষক পরিবারগুলো বাদাম চাষে এখন আগ্রহ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং এখানকার মাটির গুণাগুণ ভাল হওয়াতে বাদামের উৎপাদন ও খুব ভাল হয়েছে। তাই এ উপজেলায় কৃষক পরিবার বাদাম চাষ করা করলে উৎপাদন ও লাভ দুটোই ভাল হবে তাদের।

বাড়বকুণ্ড নডালিয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনিও কৃষি অফিস থেকে বিনা মূল্যে প্রদর্শনীর জন্য ১৫ কেজি চিনা বাদাম ঢাকা-১ জাতের বাদাম সংগ্রহ করে ৪০ শতকে চাষ করেছেন। তবে আর কিছুদিনের মধ্যে তিনি বাদাম কর্তন শুরু করবেন।

তিনি বলেন, প্রথম চাষেই ভাল ফলন হবে বলে আমি আশা করছি। অন্যান্য ইউনিয়নে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার রঘুনাথ নাহা বলেন,কৃষি পর্যায়ে উন্নতমানের ফলন উৎপাদনে প্রদর্শনীর জন্য ৫টি ইউনিয়নের ঘোড়ামারা, ছোট কুমিরা, বাড়বকুণ্ড, সৈয়দপুর, বগাচতর ব্লকে বিনা মূল্যে ৫জন কৃষকের মাঝে ১৫ কেজি হিসেবে ঢাকা ১-জাতের চিনা বাদাম বিতরণ করা হয়েছিল।

প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ২.৫ মেট্রিক টন। প্রথম চাষেই ককৃষকরা ভাল ফলন পেয়েছে। তাই চিনা বাদাম চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন