১৯ মার্চ ২০২৬

ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রী’র সাথে এসপি বাবুল আকতারের পরকীয়ার জেরে মিতুকে হত্যা

বাংলাধারা প্রতিবেদন  »

ভারতীয় এক নাগরিক গায়ত্রী দেবী’র সাথে প্রেমের জেরে মূলত এসপি বাবুল আক্তার তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে। আর এই হত্যাকাণ্ডে দেয়া হয়েছিল ৩ লাখ টাকা।

গত সোমবার বাবুল আক্তারের দুই বন্ধু সাইফুল ইসলামসহ আরও একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। মূলত বাবুল আক্তারের হয়ে সাইফুল হত্যাকাণ্ডের প্রধান মুসার এক আত্মীয় কাছে তিন লাখ টাকা পৌঁছে দিয়েছিল। এরপর সেই টাকা থেকে একটা অংশ দিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি ক্রয় করেছিল।

জানা যায়, ২০১২ সালে বাবুল আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজার যাওয়ার পর ভারতীয় নাগরিক ও এনজিও কর্মকর্তা গায়ত্রী দেবী’র সাথে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক হয়। টানা তিন বছর প্রেমের সম্পর্ক চলার পর ২০১৫ সালে বিষয়টি স্ত্রী মিতুর কাছে প্রকাশ হয়ে যায়।

আরও জানা যায়, একই বছর বাবুল আক্তারের একটি মোবাইল ফোন স্ত্রী মিতু ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রী দেবী’র সাথে অনেক ছবি ও এসএমএস দেখতে পায়। এই এসএমএস ও ছবির জের ধরে দুজনের মধ্যে অনেক কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এই ঝগড়া বাবুল আক্তার ও মিতুর পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধের এক পর্যায়ে বাবুল আক্তার মিতুকে নির্যাতন শুরু করে।

২০১৬ সালের ৫ই জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইস মোড়ে মিতুকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। প্রথম পর্যায়ে এটিকে জঙ্গিদের কাজ বলে ধারণা করা হয়েছিল। বাবুল আক্তার নিজেই এই ধারণা দিয়েছিল। কারণ, সেই সময় তিনি জঙ্গিবাদ বিরোধী অনেকগুলো অভিযান পরিচালনা করেছিল।

যদিও পরবর্তীতে বাবুল আক্তারের শ্বশুর পরিবার থেকে দাবী করা হয় বাবুল আক্তারের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী মুসাসহ যারা ছিলেন তাদের কারও সন্ধান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত পায়নি।

এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তবার প্রথম পায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ, এরপর গোয়েন্দা বিভাগ । সর্বশেষ ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তদন্তবার পায় পিবিআই। পিবিআই জোরেসরে তদন্ত শুরু করার পর বিভিন্ন ক্লু অনুসন্ধান করতে গিয়ে বাবুল আক্তারের বন্ধু সাইফুল ইসলামকে খুঁজে পায়। গত সোমবার সাইফুল ইসলামসহ আরও একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেন, তার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের টাকা মুসার আত্মীয়ের কাছে পৌছে। এবং সর্বশেষ বাবুল আক্তারকে পিবিআই চট্টগ্রাম জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে নেয়।

হেফাজতে নেওয়ার পর এখন আইনি পক্রিয়া চলছে। এখন প্রশ্ন এই আইনি পক্রিয়া কি চলছে?

যেহেতু মিতু হত্যা মামলার বাদী ছিলেন বাবুল আক্তার, সেহেতু পিবিআই আজ আদালতে একটি ফাইনাল রিপোর্ট দেবে এবং একই সাথে বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হবে। সেই মামলায় বাবুল আক্তারকে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশধাতা হিসেবে উল্লেখ করে এজাহার দায়ের হবে। এরপর পিবিআই আদালতের কাছে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তারের জন্য আবেদন করবেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন