বাংলাধারা প্রতিবেদন »
রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা সনদপত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র ও পাসপোর্ট বানাতে সহযোগিতা করায় ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বালিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৩ জুন) বিকেলে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের জন্ম নিবন্ধন সনদ সহকারী সুবর্ণ দত্ত, দালাল মো. সিরাজুল ইসলাম, রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ ইসমাইল ও তার স্ত্রী অহিদা এবং তার মেয়ে মেহের জান।
দুদক সূত্র জানা যায়, তৎকালীন সময় ২০১৯ সালে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কাউন্সিলর ইসমাইল বালি। রোহিঙ্গা নাগরিক ইসমাইল ও পুত্র অহিদ ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয়তা সনদপত্র পাওয়ার জন্য তার কাছে আবেদন করলে একই দিন তারা জাতীয়তা সনদপত্র পান। পিতা-পুত্র জাতীয়তা সনদ পাওয়ার পর আবার জন্ম নিবন্ধন ফরমের জন্য আবেদন করলে একই বছরের ৭ নভেম্বর জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রও দেন তিনি। পরবর্তীতে দুজনই পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। জাতীয়তা সনদপত্র ও জন্মনিবন্ধ দেওয়ার পর তাদের দুজনের সেই পাসপোর্টের ফরমেও কাউন্সিলর ইসমাইল বালি সত্যায়িত করেন।
পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অহিদ ও ইসমাইল পরিচয়ের সতত্য যাচাইয়ের বিষয়টি এড়াতে দালাল হিসেবে কাউন্সিলির বালির পরিচিত সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন।
একই বছরের ১৯ নভেম্বর দুদকের অভিযানে পাঁচলাইশ পাসর্পোট অফিস থেকে দালাল সিরাজুল ইসলাম আটক হন। সেই সময় অহিদ ও তার পিতা পরিচয়দানকারী ইসমাইলকে জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেন তিনি। একই সাথে অহিদের পিতা ইসমাইল ও মাতা মেহের জান নন বলেও তদন্তে বের হয়ে আসে। তবে তারা সকলেই সৌদি প্রবাসী। শুধুমাত্র কাউন্সিলর ইসমাইল বালির দেওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র ও জাতীয়তা সনদপত্রের ওপর ভিত্তি করেই চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার নির্বাচন কর্মকর্তা অহিদকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেন। বালির এই কাজে সহযোগিতা করেন ওই ওয়ার্ডের জন্ম নিবন্ধন সনদ সহকারী সুবর্ণ দত্ত।
দুদকের উপ সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন বাংলাধারাকে জানান, কাউন্সিলর ইসমাইল বালিসহ অন্যান্যরা মূলত একে অপরের যোগসাজসে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান ও অবৈধ উপায়ে জাতীয়তা সনদপত্র প্রদান এবং পাসপোর্ট সত্যায়িত করেন। এসময় তারা দণ্ডবিধি’র ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












