১৮ মার্চ ২০২৬

কর্মীদের আস্থা বাড়ালো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার »

‘মিজানুর রহমান রিয়াদ (২৪)। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রফেসনাল স্কিল্ড ওয়ার্কার হিসেবে কাজে করতেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল বিকেলে ক্যাম্পের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। উখিয়া-টেকনাফ সড়কের কুতুপালং হাঙ্গরঘোনা রাস্তারমাথা নামক স্থানে তার মোটরসাইকেলের সাথে মালবাহী পিক-আপের সংঘর্ষে নিহত হন উখিয়ার রাজাপালংয়ের কুতুপালং পুর্বপাড়া এলাকার গফুর মিয়ার ছেলে রিয়াদ। তার মৃত্যু শোকের ছায়া ফেলার পাশাপাশি পুরো পরিবারকে দিশেহারা করে দেয়। কিন্তু তার কর্ম প্রতিষ্ঠান (বিডিআরসি) মৃত্যুর দু’মাসের মাথায় রিয়াদের অভিভাবকদের হাতে ২০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করায় পরিবারটি অকালে তার কর্মক্ষম সন্তান হারানোর বেদনা অল্প হলেও লাঘব করতে পারবে।’

কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান রিয়াদের পরিবার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় ২০ লাখ টাকার চেক পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কুতুপালং এলাকার ইউপি সদস্য (৯নং ওয়ার্ড) ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন এসব কথা বলেন।

রবিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের বল রুমে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আয়োজিত কোঅডিনেশন মিটিংয়ে বিডিআরসির চেয়ারম্যান সাবেক এমপি মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব নিহত রিয়াদের বাবা গফুর মিয়ার হাতে চেক হস্তান্তর করেন।

ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, রিয়াদ চাকরির ডিউটি শেষ করে অন্যদের সাথে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলো। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী মিনি পিকআপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হলে পাশ্ববর্তী এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করে। চমেকে পৌছানোর আগেই মারা যান রিয়াদ।

বিষয়টি রিয়াদের কর্মস্থলের দায়িত্বরতদের জানানো হলে তারা কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরামর্শ দেয়। নিজ প্যাডে সবকিছু লিখিত দিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিডিআরসি কর্তৃপক্ষ একটি নজির স্থাপন করে বেসরকারি সংস্থার এক প্রয়াত কর্মীর পরিবারে ২০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে। এ উদ্যোগ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অন্যকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে কাজের প্রতি আরো দায়িত্ববান হতে সহযোগিতা করবে বলে মন্তব্য করেন মেম্বার হেলাল।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মিয়ানমার শরণার্থী ত্রাণ কার্যক্রম (এমআরআরও) প্রকল্পের ইনচার্জ ও উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. আফসার উদ্দীন সিদ্দিক বলেন, ইউএনএইচসিআর-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি উখিয়া-টেকনাফের ১৬টি ক্যাম্পে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে। এমআরআরও কর্মসূচির সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে। এদের মাঝে প্রফেসনাল স্কিল্ড ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতো মিজানুর রহমান (রিয়াদ)। সংস্থার নিয়মানুসারে বিডিআরসি’র পক্ষথেকে প্রতিটি কর্মীর জীবন বীমার আন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামুলক। সড়ক দূর্ঘটনায় রিয়াদ ২১ এপ্রিল কাজ শেষে ফেরার পথে মারা যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় বিডিআরসি নানা কার্যক্রম শেষে সংস্থার সাথে চুক্তিবদ্ধ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ‘প্রোটেকটিভ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড’ এর মাধ্যমে বীমার ২০ লাখ টাকার চেক নিহত রিয়াদের পরিবারকে হস্তান্তর করেন সংস্থার চেয়ারম্যান সাবেক এমপি মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব।

বীমার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিডিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর উর রহমান, বোর্ড মেম্বার সালাহ উদ্দীন আহমেদ, সেক্রেটারী জেনারেল মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দীন (সাবেক সচিব), এমআরআরও এবং পিএমও প্রকল্পের হেড অব অপারেশন ও পরিচালক এম হালিম, পরিচালক ইকরাম এলাহী চৌধুরী,জাফর ইমাম, পরিচালক ও চেয়ারম্যানের পিএস রাকিবুল হাসান।

এসময়, এমআরআরও উপ-পরিচালক ও ইন-চার্জ মো. আফসার উদ্দীন সিদ্দিকী ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার কেরামত আলী, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা(আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াতসহ দাতা সংস্থার প্রতিনিধিগণ ও সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রোটেকটিভ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও মরহুমের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন