১৮ মার্চ ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শতাধিক পরিবার, নেই প্রশাসনের তৎপরতা

খালেদ মনছুর  »

আনোয়ারা উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করছে শতাধিক পরিবার। চলতি বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় পাহাড় ধসে ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। মঙ্গলবার(১৫ জুন) বিকালে বৈরাগ ইউনিয়নের বদলপুরা গ্রামের আন্দারমানিক পাহাড়ে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ। এনিয়ে প্রশাসন রয়েছে হার্ডলাইনে। চট্টগ্রাম নগরে ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে চলছে উচ্ছেদ কার্যক্রম। কিন্তুু আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন রয়েছে ঘুমে। এখন অবধি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নেই কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা।

সরেজমিন দেখা যায়, মেরিন একাডেমি সড়ক দিয়ে এক কিলোমিটার ভিতরে গেলে আন্দারমানিক পাহাড়ের অবস্থান। এই পাহাড়ের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে গড়ে উঠেছে ভূমিহীন আর হতদরিদ্র মানুষের বসবাস। পাহাড় কেটে সমতল করে বাঁশ, টিন দিয়ে এই ঘরগুলো বানানো হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় খাঁড়াভাবে পাহাড় কেটে বানিয়েছেন অনেক ঘর। সবমিলিয়ে এই আন্দার মানিক পাহাড়ে প্রায় ২ শতাধিক ঘর রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক রয়েছে ঝুঁকিতে। দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। রয়েছে প্রাণহানির আশঙ্কাও।

জানা যায়, আন্দারমানিক পাহাড়ের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো বসবাস করত সমতল ভূমিতে। কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ ১৯৯৫ সালের দিকে রাতারাতি তাদেরকে উচ্ছেদ করেন। অনেকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। কোনো আসবাবপত্রই নিতে পারেননি। এসময় মাত্র ৫ হাজার টাকা তাদেরকে দিয়ে উচ্ছেদ করেছিল কেইপিজেড। এরপর থেকেই উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুরো ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় বসতি স্থাপন করে। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরুপায় হয়ে তারা এখানে বসবাস করছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

স্থানীয় যুবক মো. রাসেল বলেন, ভূমি নেই, জায়গা কেনার টাকাও নেই। তাই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছি। বৃদ্ধ আবুল কালাম বলেন, আমরা এখানে বিশ বছর ধরে বসবাস করছি। কি করব, যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। প্রশাসনের লোকজন খবর নেন না। এখানে কেউ আসেনও না। এবছরও কেউ আসেননি। এখানে আগে কবরস্থান ছিল। আমরা একপ্রকার কবরস্থানে বসবাস করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের বিষয়টি আমি অবগত নই। এই প্রথম আপনাদের কাছে শুণলাম। এলাকাটি আমি সরেজমিন পরিদর্শণ করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন