১৮ মার্চ ২০২৬

টানা তিন বছর বিনা অপরাধে সাজাভোগ; অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন সেই মিনু

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

নামের মিল না থাকার পরও এক নারীর পরিবর্তে অন্য নারী সাজাভোগ! তাও দুই-তিন বা সপ্তাহ নয়, টানা তিন বছর বিনা অপরাধে সাজাভোগ করেছেন মিনু আক্তার নামের ওই নারী। চলতি বছরের ২২ মার্চ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ‘এক নারীর সাজা খাটছেন অন্য নারী!’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ হয়। খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

জানা যায়, ২০০৬ সালের জুলাই মাসে নগরের কোতোয়ালী থানার রহমতগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলা নিয়ে গার্মেন্টসকর্মী কহিনুর আক্তারের সাথে আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীর ঝগড়া ছিল। এক পর্যায়ে কহিনুর আক্তারকে কুলসুমী গলা টিপে হত্যা করে। হত্যাকে আত্মহত্যা রূপ দিতে মরদেহটি একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর কহিনুর আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন অপরাধী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

পুলিশের দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে কহিনুরকে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদন দেন। এতে আসামী করা হয় কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে আদালত কহিনুর আক্তারকে হত্যা মামলায় আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমী বদলি মিনু আক্তার এর পরের বছর ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান।

বুধবার (১৬ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত মিনুকে মুক্তির আদেশ দেন।

আদালতের পেশকার মো. ওমর ফুয়াদ সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুক্তির আদেশের কপি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামে এক নারীর পরিবর্তে মিনু আক্তার কারাভোগ করছেন। কোনো কিছুর মিল না থাকায় একজনের স্থলে আরেকজন জেল খাটার বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন