কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজার শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী এনাম বাহিনীর প্রধান এনামুল কবির ওরফে এনাম (৩০) ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন। তার কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫।
বুধবার (১৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী।
গ্রেফতার এনাম শহরের কলাতলীর লাইট হাউস পাড়া এলাকার মৌলভী মো. আলমগীরের ছেলে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শহর শাখার সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে নিজেকে পরিবেশবাদী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন এনাম। এনামের বিরুদ্ধে জবরদখল, অস্ত্র, পুলিশের ওপরে হামালা ও মারামারির অভিযোগসহ অর্ধডজন মামলা রয়েছে।
তবে, এনামকে কৌশলে ইয়াবা উদ্ধার ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা জামায়াত নেতা মৌলভী মো. আলমগীর।
র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে ঝিলংজার লিংকরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এবামকে গ্রেফতার করা হয়। জিঙ্গাসাবাদে এনাম টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছে। জব্দ ইয়াবাসহ তাকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মৌলভী আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা শাখার সাবেক সভাপতি। সে সূত্রে এনাম ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে কর্মকান্ড চালাত। কিন্তু কয়েক ধরে জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েক শীর্ষ কতেক নেতার ছত্রছায়ায় এসে আওয়ামী রাজনীতির কর্মী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন। তাকে ব্যবহার করে পর্যটন জোনে হোটেল দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাতেন জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সেসব নেতারা এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হোটেল-মোটেল জোনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি হোটেল জামান, পিংক শোর, হোটেল নিঃস্বর্গ, মেঘলা ও স্বপ্ন রিসোর্টসহ অন্তত ২০টি হোটেল দখল বেদখলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এনাম। তাকে প্রতিহত করতে গেলে পেছনে ক্ষমতাধর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের নাম আসতো। তখন তার সামনে যেতো না কেউ। জেলা আওয়াগীলীগের প্রভাবশালী নেতার হয়ে নিয়মিত জায়গা ও হোটেল দখলের নেতৃত্ব দিয়ে অস্ত্রবাজ হিসেবে পরিচিতি পান এনাম।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চদ্র দে বলেন, গ্রেফতার এনামের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ২টি অস্ত্র মামালসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, গ্রেফতার এনামের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ গুলো খতিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, আমার জেলা কমিটির এক নেতার বন্ধু হিসেবে এনাম বাপার শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। তার দখলবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ সামনে আসায় তাকে বাপা থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












