১৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে জালিয়াতির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে আমদানি কারক মেসার্স হ্যাশটেগ ট্রের্ডাস দোকান নং ০২, গ্লোব মার্কেট (২য় তলা) ২৩৮ নোয়াব পুর রোড, টাকা ১১০০ বিন নং ০০০২৬৯৭৯২-০২০৫ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য চালান কায়িক পরীক্ষার প্রতিবেদনে এইচএস কোড পরির্বতন হওয়া সত্ত্বেও জরিমানা না করে শুল্কায়ন করে পণ্য খালাসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার ফলে জরিমানাসহ শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।

আমদানিকারক তার মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট সৈয়দ ট্রেড’র (১৭৪২ শেখ মজিব রোড আগ্রাবাদ চট্টগ্রাম এআইএন নং ৩০১০৯৩৪৫৭) মাধ্যমে পণ্য খালাস করার জন্য বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করেন। (বি/ই নং সি ১৩৩৮৯২০ তারিখ ২৮.০৯.২০২০, নথি নং ১১০০/ এআইআর/ ২০২০-২১, সেকশন -৮(এ). এবং অনিয়ম রেজিস্ট্রার ক্রমিক নং ৩৩৪ তারিখ ১০/১০/২০২০।)

আমদানিকারক চীন হতে স্ক্রু এইচ এস কোড ৭৩১৮.১৩.০০ ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে। সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট ঘোষণা মোতাবেক শুল্কায়ন সমাপ্তের পর, ২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কাস্টম হাউস চট্টগ্রামের সোনালী ব্যাংক শাখায় ২৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬ শত ৮৫ টাকা ৭১ পয়সা রাজস্ব পরিশোধ করে খালাসের জন্য ০২ টি গাড়িতে (নং (১) ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৯৬৪১ এবং (২) ফেনী ট ১১-০৭৩৫) পণ্য বোঝাই করা হয়। তবে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, পণ্য চালানটিতে Asycuda world system এ বি/ই এআইআর কর্তৃক lock থাকায় খালাস নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রবর্তীতে সিএন্ডএফ এজেন্ট কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্যটি খালাসের জন্য কমিশনার অফ কাস্টম এর নিকট আবেদন করে। আবেদন পত্রটিতে কমিশনার অব কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা এআইআর কর্তৃক পণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষার ফলাফল কমিশনারকে জানানো জন্য নির্দেশ দেন।

কিন্তু পণ্য চালানটির কায়িক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেখানে পণ্যের বর্ণনা ও এইচ এস কোড পরিবর্তন হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছে এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআইআর) মো: আল নাহিয়ান শাদলী, রাজস্ব র্কমকর্তা ইমরুল হাসান পাটোয়ারী এবং সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম এর স্বাক্ষরিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য বলা হয় এবং অনিয়মের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়।

মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত এই পণ্য চালানটি আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও আইন ও বিধি বহির্ভূত ভাবে পুনঃশুল্কায়ন ও ন্যায় নির্ণয় না করে যেকোন ভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে খালাস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার ফখরুল আলম বাংলাধারাকে বলেন, যেহেতু বিষয়টি গত বছরের সেক্ষেত্রে আমাকে নথিপত্র দেখে তদন্ত করে যদি কোনো অনিয়ম থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস তৎকালীন (এআরআই) রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হোসেন পাটয়াওরী বাংলাধারাকে বলেন, পণ্য খালাসের ব্যাপারে আমি অবগত নই। আমাদের কাজ ছিল কোনো অনিয়ম হলে সেটি লিপিবদ্ধ করা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন