১৮ মার্চ ২০২৬

আনোয়ারায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়; ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ শিক্ষা অফিসের

খালেদ মনছুর, আনোয়ারা প্রতিনিধি »

আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। বায়োমেট্রি হাজিরার নামে টাকা আত্মসাৎ, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর বই না কিনে ভুয়া ভাউচার ও বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্ধের টাকা, স্লিপের টাকা নিজের পকেটে ঢুকানোসহ নানা অভিযোগ উঠেছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিমিত্তে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং জবাব ঔদ্বত্যপূর্ণ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা অফিস বরাবর সুপারিশ পাঠিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ১৪ মার্চ হাইলধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব বুঝে নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহেদা বেগমের কাছ থেকে। ওইদিন ভাউচারের মাধ্যমে অন্যান্য জিনিসপত্রের সাথে স্লিপের টাকা থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ের জন্য রাখা ৩০ হাজার টাকাও বুঝে নেন প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবির। কিন্তু ওই টাকায় তিনি বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন না কিনে সেগুলো নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেক করা হয়েছে। ২০২০ সলের ১৪ আগষ্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি বরাদ্ধকৃত অর্থখরচ না করে ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও ঐদিন বিদ্যালয়েও আসেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তিনি বরুমচড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালে স্লিপের ৩৯ হাজার টাকা কাজ না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে নোটিশের জবাবে সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে ঔদ্বত্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে বিভাগীয় শাস্তি সুপারিশে উল্লেখ করা হয়। আর এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর রিপোর্ট) প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরের বিরুদ্ধে যায়। ২০২০ সালের এসআর রিপোর্ট বিরুদ্ধে যাওয়ায় সিরাজ কবির চালাকির আশ্রয় নিয়ে ২০১৯ সালের পূর্বের তারিখে চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন করেন। যা শিক্ষা আইনের পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।

ফলে প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরের চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদনটি নাকচ হয়ে যায়। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ডিজি বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তকরে বিভাগীয় শাস্তির যে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে তার ব্যবস্থা নিলে আজকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রদানের ধৃষ্টতা তিনি দেখাতে পারতেন না।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবির বলেন, এগুলো সব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এগারোর কোনো ভিত্তি নেই। তাদের নির্দেশনা মতো বই ক্রয় না করায় এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন আমার বিরুদ্ধে।

উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আশীষ কুমার আচার্য্য বলেন, প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আমরা তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. বেলাল হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক সিরাজ কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। তাঁর এসব অনিয়ম আর ধৃষ্টতার কারণে তার চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি আটকে গেছে। আমরা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর সুপারিশ পাঠিয়েছি। আর এতে তিনি ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন