১৫ মার্চ ২০২৬

কাউন্সিলর হাসনীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা ও তার পরিবারের

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড থেকে চারবারের কাউন্সিলর হাসান মাহমুদ হাসনীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন প্রবীণ এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। এসময় তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ও ফোন করেছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) নগরীর কোতোয়ালী থানার দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের ঘাটফরহাটবেগ এলাকায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুল মোনাফের নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা যায়, ৭৫ বছর বয়সী হাজী আব্দুল মোনাফ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান।

অন্যদিকে হাসান মাহমুদ হাসনী দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত চারবারের কাউন্সিলর। তিনি দুই দফায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে তিনি পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় রাত ১২টার আগে ট্রাক ঢোকা নিষেধ। কিন্তু হাজী আব্দুল মোনাফের নির্মাণাধীন ভবনের জন্য আনা মালামালের ট্রাকটি রাত সাড়ে আটটার সময় ঢুকে। যার ফলে ওই এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের গাড়ি ঢুকতে সমস্যা তৈরি হয় এবং কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়।

আব্দুল মোনাফ সিকদারের ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রাত (শুক্রবার) সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির কাজের জন্য টাইলসের গাড়ি আসে। লকডাউনে গাড়ি কম তাই গলিতে প্রবেশ করে। এসময় সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গাড়ি নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। টাইলসবাহী ট্রাকটির জন্য ওনার (আ জ ম নাছির উদ্দিন) গাড়ি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। যদিও অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়িটা সুন্দরভাবে চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আ জ ম নাছির উদ্দিনের গাড়ি চলে যাওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যে কাউন্সিলর হাসনী কয়েকজন নিয়ে তাদের আমাদের বাসার নিচে আসেন। প্রথমে তিনি আমার বাবার ওপর (প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মোনাফ) চড়াও হয়ে রাস্তায় ট্রাক রাখার কারণ জানতে চান। এসময় তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। আমি ঘটনাটি ভিডিও করার জন্য মোবাইল বের করলে হাসনী হাতে আঘাত করে মোবাইল ফেলে দেন এবং আমাকে চড়-থাপ্পড় দেন।’

নাসির উদ্দিনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর হাছান মাহমুদ হাসনী বাংলাধারাকে বলেন, ‘তারা যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাদের মারধর করিনি। বরং আব্দুল মোনাফ সিকদার ও তার দুই ছেলে আমাকে অশ্লিল ভাষায় গালাগালি করে এবং র‌্যাবের মাধ্যমে ক্রসপায়ারেরও হুমকি দেয়।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘রাত ১২টার আগে এলাকার ভেতরে কোনো ধরনের বড় যান ঢোকানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমি আমার নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রচণ্ড যানজটে আটকা পড়ি। এসময় আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে টাইলস বহনকারী ট্রাক চালককে সিরাজুদৌলা রোডে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করি এবং রাত ১২টার পর এসে টাইলস নামানোর নির্দেশ দিয়ে চলে আসি।’

নাসিরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষে তর্কাতর্কি এবং উত্তেজনার প্রমাণ পেয়েছি। মারধরের অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখব।’

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন