সায়ীদ আলমগীর »
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ। এরই মাঝে করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করেই কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় ৭৫ টি পশুর হাট লোকে লোকারণ্যে হয়েছে। করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিধি মানতে মাইকিং করা হলেও তা একান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করছে লোকজন। লোকারণ্য হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানাতপ নেই কোন তদারকি।
স্বাস্থ্যবিধির তদারকি না থাকলেও নকল টাকা ধরার মেশিনের পাশাপাশি নিরপত্তায় কাজ করছে পুলিশ ও র্যাব। গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রয়েছে মেডিকেল টিম।
তবে, এবছরের বাজারে গরুর দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু বেশি। এরপরও দেদারসে চলছে পশু বিকিকিনি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এবার ২টি অনলাইন পশুর হাটের পাশাপাশি স্থায়ী অস্থায়ি মিলিয়ে জেলায় ৭৫টি গরু-মহিষের হাট বসেছে। এরমধ্যে জেলার ৪ টি পৌরসভায় ৫টি, কক্সবাজার সদরে ৩টি, রামুতে ৭টি, উখিয়াতে ৫টি, টেকনাফে ১১টি , চকরিয়ায় ২২টি, পেকুয়ায় ১১টি, কুতুবদিয়ায় ২টি ও মহেশখালিতে ৯টি কোরবানের পশু হাট বসেছে। তারমধ্য ৩৪টি স্থায়ী হাটের গবাদি পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২২টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

সরকারের কঠোর লকডাউন শিথিল করার পর পরই ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। শেষ মুহূর্তের কেনা-বেচা চলছে বেশ জোরেসোরেই। পশুর হাটগুলোতে যেন কেনা-বেচার ঢল নেমেছে। উপচে পড়া ভিড়ে গাদাগাদি করে পশু বিকিকিনিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এবারের ঈদে মিয়ানমারের গরু কম আসায় খামারী ও চরের গরুর মালিকগণ বেশি দাম পাচ্ছেন। হাটগুলোতে খামারীদের গরুর দামই বেশ চড়া। এসেছে ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের দেশী গরু। অনেকেই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে এবারের লকডাউন থাকায় বাইরের গরু আসতে না পারাকে দায়ী করেন। অন্যদিকে দাম ভালো পাওয়ায় খামারীরা খুশি হলেও অখুশি ক্রেতা সাধারণ। তবুও বাধ্য হয়েই সাধ্যের মধ্যে কোরবানির পশু নিয়েই ঘরে ফিরছেন মানুষ। অনেকেই পায়ে হেঁটে হাটে এসেছেন গরু-ছাগলসহ কোরবানির পশু কিনতে।
এবার মাঝারি সাইজের গরু ৭০-৮০ হাজারে এবং বড় সাইজের গরু ১ লাখ থেকে দেড় লাখে বিকিকিনি হচ্ছে। বড় আকারের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ হাজার টাকায়।
এদিকে, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারির পর করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব হাট পরিচালনা করার নির্দেশ থাকলেও শেষ মুহূর্তের হাট সমূহে নেই কোনও স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই। যদিও হাটগুলোতে ইজারাদার ও তাদের লোকজন মাইকিং করে ঘোষণা দিচ্ছেন- শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু ছাগল কেনা বেচা করতে। তবুও সেদিকে কারো নেই কোনও ভ্রুক্ষেপ। হাটে আসা অধিকাংশ মানুষেরই মুখে নেই মাস্ক। ফলে করোনা সংক্রমণের পরিধি আরও বেড়েই যাচ্ছে।
এবিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অসীম বরণ সেন বলেন, কক্সবাজার জেলায় পশুর চাহিদা ১ লাখ ৬৫ হাজারের বিপরীতে মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৯ টি। তাই মিয়ানমারের গরু না আসায় এবার খামারীরা খুশি।

তিনি আরো বলেন, সরকারের নির্দেশনায় এবার আমরা অনলাইন পশুর হাট করেছি। ৮টি উপজেলার জন্য ৮ টি আলাদা পেইজ করেছি। সেখানে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩৩৯টি গবাদি পশুর ছবি দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৭০২টি বিক্রি হয়েছে। এবারের পশুর হাটে সবই দেশীয় গরু। দামও নাগালের মধ্যে। তাই ক্রেতা বিক্রেতা দুজনেই খুশি।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো বলেন, কোরবানের গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেলার স্থায়ী ৩৪টি হাটে আমাদের ২২ টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
এবিষয়ে স্থানীয় সরকারের কক্সবাজারের উপ- পরিচালক ( ডিডিএলজি) শ্রাবস্তী রায় বলেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করার লক্ষ্যে গবাদি পশু কিনতে লোকজন হাটে যাচ্ছে। আমারা তাদের প্রতারকের হাত থেকে রক্ষা করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। ইজারাদারদের হুশিয়ার করেছি স্বাস্থ্যবিধি মানতে। সেখানে মাস্ক্র হ্যান্ডস্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরপত্তার জন্য পর্যাপ্ত র্যাব-পুলিশ পাঠানো হয়েছে।রয়েছে ব্যাংক বুথ। মাঝে মধ্যেই ভ্রাম্যমান আদালত যাচ্ছে সেখানে।
তিনি আরো বলেন, এরপাশাপাশি জেলাবাসী যাতে ঘরে বসেই কোরবানের পশু কিনতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইন ক্যা্টল মার্কেট নামের একটি পেইজ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রানী সম্পদের ১টি পেইজ রয়েছে। এখান থেকে যারা পশু কিনবে তাদেরকে খাজনা দিতে হবে না।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মাহাবুবুর রহমান বলেন, হাট যতই লোকারণ্যে পরিনত হচেছ ততই আমাদের সংশয় বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যেভাবে গাদাগাদি করে মানুষ কোরবানের পশু কিনছে এর মাশুল আমাদেরকে ঈদের পর দিতেই হবে। তাই সকলের কাছে অনুরোধ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। নিজেকে সুস্থ রাখুন এবং আশেপাশের সকলকে সুস্থ রাখার সুযোগ দিন।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












