বাংলাধারা প্রতিবেদন »
ঈদুল আযহার তৃতীয় দিন অর্থাৎ ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনে সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণায় নতুন অর্ডার প্রাপ্তিতে চরম অনিশ্চয়তায় পোশাক শিল্প মালিকরা।
সোমবার (১৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে বিজিএমইএ।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার কর্তৃক ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে পোশাক কারখানা সমূহ বন্ধ থাকলে রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতকৃত তৈরী পোশাক ক্রেতার নির্ধারিত লীড টাইমের মধ্যে জাহাজীকরণ করা সম্ভব হবে না। ফলে উক্ত রপ্তানি আদেশ বাতিল/ স্থগিত/ এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহ আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে রুগ্ন শিল্পে পরিনত হবে।
অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে বলা হয়, বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পোশাক বিক্রি বেড়েছে। ফলে যে কোন মূল্যে দ্রুত পণ্য ডেলিভারী চাই। বর্তমান সময়টা ইউরোপ এবং আমেরিকাতে আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রচুর রপ্তানি আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। এ’সময়ে কারখানা বন্ধ রেখে চলমান রপ্তানী আদেশ সমূহ যথা সময়ে জাহাজীকরণ করতে না পারলে ভবিষ্যতের অর্ডার সমূহ গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।
ক্রেতারা অন্যান্য দেশ থেকে অর্ডার করার আশঙ্কা জানিয়ে বলা হয়, রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগি দেশ সমূহ যথাক্রমে- ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত, চীন ও মিয়ানমারে কারখানা খোলা রেখে উৎপাদন পরিচালনা করছে। ফলে ক্রেতারা নতুন রপ্তানি আদেশ সমূহ উক্ত দেশ সমূহে স্থানান্তরের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
পণ্য ডেলিভারি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লকডাউনের মধ্যে ১৪ দিন পোশাক কারখানা সমূহ বন্ধ রাখা হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য চালান ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব হবে না, বন্দরে কন্টেইনার সংরক্ষণে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত হয়ে হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। ফলশ্রুতিতে বহিঃনোঙ্গরে জাহাজের অবস্থান বৃদ্ধি পেয়ে কন্টেইনার ও জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়ে বিদেশী ক্রেতাদের নিকট বাংলাদেশের ভাবমুর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন হবে। এছাড়াও সময় মত পণ্য চালান খালাস ও রপ্তানি করতে না পারার কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। যা, জাতীয় অর্থনীতিতে নৈতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার থেকে ৪,৫০০টিউজ আমদানি পণ্য চালানের কন্টেইনার জাহাজ থেকে খালাস করা হয় এবং গড়ে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০টিউজ রপ্তানি চালানের কন্টেইনার জাহাজীকরণ করা হয়। আমদানি পণ্য চালান সমূহ ডেলিভারী নেওয়া সম্ভব না হলে ১৪ দিনে ৫০,০০০ থেকে প্রায় ৫৫,০০০ টিউজ কন্টেইনার বন্দর জেটিতে মারাত্মক জটের সৃষ্টি করবে। বন্দর জেটিতে কন্টেইনার রাখার ধারণ ক্ষমতা ৪৯,০১৮টিউজ। উক্ত বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা এখনও আশাবাদী যে, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য তথা তৈরী পোশাক শিল্পের সমূহ বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য শিল্প বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পূর্বের ন্যায় লকডাউনের মধ্যেও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন পূর্বক দেশের রপ্তানির স্বার্থে পোশাক শিল্প কারখানা খোলা রাখা সহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাস ও রপ্তানির জন্য অনুমতি প্রদান করবেন।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












