১২ মার্চ ২০২৬

বন্দরে জট ঠেকাতে আমদানি কন্টেইনার যাচ্ছে বেসকারি আইসিডিগুলোতে

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত  »

কন্টেইনার জট ঠেকাতে এবার আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার গুলো স্থানান্তরিত হচ্ছে বেসরকারি আইসিডিগুলোতে। যদিও চট্টগ্রাম বন্দরের শতভাগ রপ্তানি পণ্যে ১৯ টি বেসরকারি আইসিডি দিয়ে জাহাজকীকরণ হয়।এছাড়া ৩৮ ধরণের আমদানিকতৃ খাদ্যপণ্য ও রাখা হয় বেসরকারি আইসিডিগুলোতে। তবে এবার সবগুলো আমদানিকৃত পণ্যবাহী কন্টেইনারকে বেসরকারি আইসিডিগুলোতে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে গত ২৫ জুলাই জাতীয় রাজম্ব বোর্ডর সচিব(কাস্টমস নীতি) মেহরাজ উল আলম সাক্ষরিত চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে প্রাইভেট আইসিডিগুলো থেকে আমদানি পণ্য খালাসের কথা জানানো হয়।

বেসরকারি আইসিডিগুলো থেকে আমদানি পণ্য খালাসের বিষয়ে অনেকটা অসন্তুষ্ট বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট এবং আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। কেননা বেসরকারি আইসিডিগুলোতে যানজট এবং সময়ক্ষেপণ হওয়ায় ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় তাদের। এছাড়া শতভাগ রপ্তানি পণ্য এসব আইসিডিগুলো থেকে জাহাজমুখী হওয়ায় সেখানে রপ্তানির পণ্যের জট লেগে আছে।আইসিডিগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৪ হাজার কন্টেইনার টিইইউএস কন্টেইনার স্তুপ জমে পড়ে আছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডের কন্টেনার ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইইউএস। বুধবার (২৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৪০ হাজারের উপরে কন্টেইনার জমা পড়ে আছে।এছাড়া প্রতিদিন ৩ হাজার করে কন্টেইনার জমা হচ্ছে বন্দর ইর্য়াডে। কন্টেইনার জমা হওয়ার চেয়ে ডেলিভারির হার ধীর গতি হওয়ায় ধারণক্ষমতা পুরোটাই পূর্ণ হয় যাবে। এতে করে বন্দরে সঠিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পাবে। আমদানিকৃত কন্টেইনার খালাসের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো সচল রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তাই জরুরী ভিত্তিতে যাতে বন্দরে কন্টেইনার স্তুপ না জমে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত না হয় সেজন্য আমাদানী পণ্য গুলো যাচ্ছে বেসরকারি আইসিডিগুলোতে।

যে পরিমাণ কন্টেইনার নামছে সে তুলনায় খালাসের কোনো লাপাত্তা নেই এতে জট বাঁধছে। আর তাই বন্দরের অপরাশেনাল কার্যক্রম সচল রাখতে এবং পরিস্থিতি সামাল আমদানি পণ্য বেসরকারি আইসিডিগুলোতে স্থানান্তরের কথা জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বেসরকারি আইসিডিগুলো থেকে পণ্য খালাস করা অনেকটা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই সেখান থেকে পণ্য খালাস করতে রাজি নন।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক সাংবাদিকদের জানান, রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে। বন্দরের জট ঠেকাতে বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের গ্রহণ করতেই হবে। যে হারে কন্টেইনারের স্তুপ জমা হচ্ছে এতে করে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করাটা কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে বেসরকারি আইসিডিগুলোতে আমদানি স্থানান্তর করা হচ্ছে। তিনি সরকারি সিদ্ধান্ত সকলকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জানান, অফডক থেকে পণ্যখালাস করাটা দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়।এতে করে অনেক চার্জ ও দিতে হয়। অনেক কাঁচামাল আছে, যেগুলো কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় আমরা নিতে পারবো না আবার অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে সেখানে।

বিজিএমইএ বার বার বন্দর থেকে পণ্য খালাসের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ কে চিঠি প্রদান করলেও এবার তারা সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানান।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ