বিশেষ প্রতিবেদক »
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধর জন্য সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি মানছে না অনেকেই। সরকার দফায় দফায় সাধারন ছুটি দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হচ্ছে। জনস্বার্থে গাড়ী চলাচল ও গমনাগমনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই অব্যাহত রয়েছে। যে কোন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও নিবৃত্তিমূলক সরকারী চেষ্টাকে নৎসাত করে দিচ্ছে মুষ্টিমেয় জনসাধারণ। বিভিন্ন জরুরী সেবা ও খাদ্য সরবরাহের জন্য সুনির্দিষ্ট গাড়ী চলাচল অব্যাহত রাখতে সরকার অর্ধশত পরিসেবা চালু রাখার নির্দেশানা দিলেও পরিবহন মালিক সমিতি তাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। যা দ্রব্যের ক্রয়মূল্যের উপর প্রভাব ফেলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার জরুরী পরিষেবার কাজে নিয়োজিতদের পরিবহন ও কর্মী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বহনে সহায়তা করার নির্দেশনা দিলেও মানছে না অনেকেই। অনেক পরিবহন শ্রমিক করোনা ভাইরাস থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে সুরক্ষা সরঞ্জাম দাবি করলেও দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ বা মালিক। ফলে এ ধরনের পরিবহন শ্রমিকরা করোনা আতঙ্কে রাস্তায় নামছে না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জরুরী পরিষেবা চালু রাখতে গত বছরের ৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এই বিষয়ে একটি পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন। যা এখনও কার্যকর রয়েছে। এতে সরকার জরুরী পরিষেবা চালু রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার অনুলিপি বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব, সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি পুলিশ কমিশনার, সকল বিভাগীয় কমিশনার ও সকল জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।

সরকার যেসব উপযোগীতা মানুষকে ভর্তুকী মূল্যে দিয়ে আসছে এমন সেবা সমূহ সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত পরিবহনে চলাচল করতে পারবে। এছাড়াও টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা কাজে নিয়েজিত যানবাহনকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এমনকি এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরকে সেবা দেয়ার অনুমতি দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের সুরক্ষায় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনিয় পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এদের অনেকেই রাস্তায় নামছে না করোনা আতঙ্কে।
এদিকে, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত এবং ঔষধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন এবং কর্মীদের বহন ও ঔষধ শিল্পকারখানার যানবাহন ও কর্মীদের চলাচল করতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী, শিশুখাদ্য, খাদ্যদ্রব্য, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং পশুখাদ্য পরিবহন কাজে ব্যবহৃত গাড়ী ও কর্মীদের জরুরী পরিষেবার আওতায় রাখা হয়েছে। অথচ, নানা অজুহাতে এসব খাতে মুষ্টিমেয় পরিবহন ও কর্মী রাস্তায় নেমেছে। ফলে খাদ্য সঙ্কটের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি বাজারে বিদ্যমান রয়েছে। এতে খাদ্যসামগ্রী চলে যাচ্ছে ক্রেতাদের ক্রয় কক্ষমতার বাহিরে।
অপরদিকে, কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানী ইত্যাদি পণ্য পরিহনে সরকার কোন ধরনের বাধা সৃষ্টি না করার ঘোষনা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে গাড়ী ও কর্মী নামছে না। এছাড়া কৃষিজ পণ্য উৎপাদন, মৎস ও প্রাণীসম্পদ খাতের উৎপাদন, দুগ্ধ পণ্য উৎপাদন, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনসহ জীবনধারনের মৌলিক পণ্য উৎপাদনও পরিবহনকাজে নিয়োজিত যানবাহনকর্মীদের রাস্তায় নামার অনুমতি থাকলেও মুষ্টিমেয় কার্যকর রয়েছে। এছাড়া সরকারী ও বেসরকারী সকল প্রকার জরুরী পরিষেবা সংশ্লিষ্ট ও এসব রক্ষণাবেক্ষন কাজে নিয়েজিত কর্মীরা পণ্য পরিবহনে চলাচল করতে পারবে। অথচ এসব পরিবহন মালিকদের কারনে রাস্তায় নামছে না।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের কয়েক ট্রাক ও পিকআপ মালিকের পক্ষ থেকে জানা গেছে, পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া ট্রাক ও পিকআপ চালানো সম্ভব নয়। কারন এই মুহুর্তে সমিতির কথা না শুনলে করোনা পরবর্তীকালে ভাড়া নিয়ে ঝামেলা করবে সমিতি। যারা এই মুহুর্তে গাড়ী চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে রাখছে সমিতির লোকজন। সরকার খাদ্য, জরুরী সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহনে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়নি কিন্তÍু রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












