মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
৫২’র ভাষা আন্দোলন আর ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থান পর বাঙালী জাতি শেখ মুজিবুর রহমান নামের এই দেশপ্রেমিক ও নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে ভূষিত করে। কোটি বাঙালীর কণ্ঠে জয় বাংলা, বাংলার জয়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলার জন্য লড়েছেন।
আমাদের জানা আছে বা নেই তবে তৃতীয় প্রজন্মের কাছে এখন ১৯৫২ যেমন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তেমনি ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ গড়ার প্রাক্কালে শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাস জানা প্রয়োজন।
বঙ্গবন্ধু যখনই চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখতেন তখনই চট্টগ্রামের তৎকালীন ছাত্রনেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সঙ্গে রাখতেন। চট্টগ্রামের ছেলে মহিউদ্দিন চৌধুরীও তাঁকে নিয়ে মাঠে ময়দানে কৃষক, মজুর আর দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কখনো বঙ্গবন্ধু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আবার কখনো-বা পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সংঘবদ্ধ হতে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
বাংলা মাতৃভাষার দ্বিতীয় জন্ম হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কারণেই। আমরা তাই উচ্চস্বরে বলতে পারি আমার মায়ের ভাষা বাংলা। বাংলা মায়ের তথা বাংলাদেশের জন্মদাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন-“এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে যেদিন বাংলার কৃষক, মজুর ও দুঃখী মানুষের দঃখের অবসান হবে”। আর বাংলা ভাষাই হইবে রাষ্ট্র ভাষা”।
১৯৫২ সালের ২৩ জানুয়ারী খাজা নাজিম উদ্দিন ঘোষণা করেন- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে ‘উর্দু’। এর প্রতিবাদে বন্দি থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারীকে রাজবন্দি মুক্ত এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ১৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এসময় সালাম, বরকত, রফিক ও শফিউল শহিদ হন। ১৯৫৩ সালে মাওলানা ভাসানীসহ প্রভাতফেরীতে বের হন কোটি মানুষের কন্ঠস্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৬৯ এর ২২ ফেব্রুয়ারী জনগণের অব্রাহত চাপের মুখে তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামীদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারী রেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রায় ২০ লাখ ছাত্রজনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
আমরা বাঙ্গালী-এই গর্বটুকু করতে পারি শুধুমাত্র জাতির জনকের দেশপ্রেমের কারণে। আমরা বাংলাদেশী তাও বলতে পারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণেই। বঙ্গবন্ধুই পাকিদের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীদের জাগ্রত করতে কারাগার থেকেও হুঙ্কার দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বাংলার দামাল ছেলেরাসহ সকলকেই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে আহবান জানান। আর এই আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছেন। লাখো শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। পেয়েছি লাখো শহীদের রক্তে মাখা লাল আর বাংলা মায়ের প্রকৃতির সবুজের আভায় গড়া আমাদের জাতীয় পতাকা।
বাঙ্গালী জাতির এ জনক শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানী হানাদারদের দোসরদের হাতেই নির্মমভাবে বুলেটের আঘাতে খুন হতে হয়েছে দেশপ্রেমিক শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাত্রিতে। সারা বাংলাকে হারাতে হয়েছে জাতির পিতাকে। গত বছরের ১৭ মার্চ জাতির পিতার শততম জন্মদিন পালনে সারাদেশেই প্রস্তুতি ছিল দেখার মতো। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনুষ্ঠান সংকুচিত করা হয়েছে। এ কারণে ভক্ত ও অনুসারীরা অনেকটা নাখোশ।
সরকারী বেসরকারী এমনকি বিদেশী ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন পালনে অপেক্ষমান ছিল। বিভিন্ন স্থানে ছোট বা বড় আকারে লাগানো হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ক্ষণ গননা শুমারী। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় আকারে এই শুমারী লাগানো হয়েছিল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে।
এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন দফতর মুজিব শতবর্ষ পালনে পোষ্টার, ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে একাকার করেছিল। ভয়াল করোনার কারণে জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকী আর পালন করা হয়নি।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












