বাংলাধারা প্রতিবেদক »
শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী (২৬) একজন ভয়ঙ্কর প্রতারক। নিজেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের এপিএস পরিচয় দিয়ে করেন নানান প্রতারণা।
জানা যায়, শিহাব নিজেকে উপমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে বেশ কয়েকজন থেকে বিশেষ সুবিধা আদায় করে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আবার কখনও পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু ও মোটেল সৈকতে ভুয়া পাসপোর্ট ও পরিচয় ব্যবহার করে অন্য জনের নামে বিল করে পালিয়ে এসেছেন। এক নারী থেকে কারাবন্দি স্বামীকে মুক্ত করার নামে আত্মসাৎ করেছে দুই লাখ টাকা।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি প্রতারক শিহাবের। ২ আগস্ট (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টায় রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
বারবার শিহাবের প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাইফুল ইসলাম নয়ন নামের এক ব্যবসায়ী। পুলিশ কর্তৃক জানা যায়, শিহাব নয়নকে কাতারে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে পাসপোর্টের ফটোকপি নেন। এরপর সেই পাসপোর্ট বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করে চালায় প্রতারণা।
গত ২৭ জুলাই নগরীর স্টেশন রোডস্থ পর্যটন হোটেল মোটেল সৈকত থেকে নয়নের কাছে একটি ফোন আসে। নয়নকে মোটেল সৈকত কর্তৃপক্ষ ১১ হাজার টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ করতে বলে। একথা শুনে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম নয়ন অনেকটা অবাক হয়।
মোটেল সৈকত কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতারক শিহাব নয়নের পাসপোর্ট এর ফটোকপি প্রদান করে দুই দিন থেকে খেয়ে ১১ হাজার টাকা বিল পরিশোধ না করে পালিয়ে গেছে। পরে পাসপোর্টে থাকা নম্বরে বিলের জন্য যোগাযোগ করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
আরও জানা যায়, গত ২৮ জুলাই পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতেও নয়নের পাসপোর্ট ব্যবহার করে রুম বুকিং করে শিহাব। সেখানে একদিন অবস্থান করে নয়নের নাম ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। এরপর ২৯ জুলাই রেডিসনের রিসিপশন থেকে ২৫ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে ফোন আসে নয়নের ফোনে।
এরপর সাইফুল ইসলাম নয়ন প্রতারক শিহাবের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানা ৪০৬/৪২০ ধারায় একটি মামলা রুজু করেন।
উক্ত মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া একটি ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামে। ২ আগস্ট (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার সময় রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সমস্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, এর আগেও শিহাব শিক্ষা উপমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে তাসলিমা নামের এক নারী থেকে দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ওই নারী কোতোয়ালী থানায় প্রতারক শিহাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান, দুই লাখ টাকার বিনিময়ে কারাবন্দি স্বামীকে জামিনে মুক্ত করবেন।
কোতোয়ালী থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে আরও বলেন, শিহাব ভয়ঙ্কর প্রতারক। সে একেক সময় একেক জনের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করে। এর আগেও তাকে একবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে সে আবারও প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












