আনোয়ারা প্রতিনিধি »
আনোয়ারা উপজেলায় মেডিকেল সার্টিফিকেট জাল করে নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে এক স্কুল শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে কম্পিউটার দোকানে স্কেনিং করে জাল পুলিশ কেইস সার্টিফিকেট বানিয়ে এই প্রতারণামূলক মামলার আশ্রয় নেয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
আনোয়ারা সদরের কেজি ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করে তিনি বিজ্ঞ আদালতের নিকট এর সুষ্ঠু প্রতিকার দাবী করেছেন।
জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলা সদরের কেজি ভবনে ভাড়ায় থাকেন স্কুল শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর এলাকার আবু জাফরের মেয়ে তায়বা খানম প্রমিকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই নানা অজুহাতে সংসারে বিশ্চৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন স্ত্রী। এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিশ বিচার হয়।
এসব ব্যাপার নিয়ে শশুর বাড়ির লোকেরা আব্দুর রহিমকে শাররিকভাবে নির্যাতন করলে আব্দুর রহিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর জের ধরে শশুর বাড়ির লোকেরা তার স্ত্রীকে দিয়ে আদালতে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। মামলায় নির্যাতনের ডকুমেন্ট হিসেবে আনোয়ারা হাসপাতালের ৮/৬/২০২১ তারিখের একটি জাল মেডিকেল পুলিশ কেইস সার্টিফিকেট প্রদান করেন।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই তারিখে আনোয়ারা হাসপাতালে তায়বা খানম প্রমি নামে কেউ চিকিৎসা নেয়নি। এদিন ৮০ নং রেজিস্ট্রেশনে চিকিৎসা নিয়েছেন একজন নয় মাসের শিশু। নিউমনিয়ার প্রকোপ নিয়ে শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হয়।
মামলা দায়েরকারীরা অন্য একজনের প্রেসক্রিপশন নিয়ে কম্পিউটারের দোকানে স্কেনিং করে জাল সার্টিফিকেটটি তৈরি করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
আদালত আনোয়ারা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, আমার শশুর বাড়ির লোকেরা আমাকে নির্যাতন করে উল্টো আমার স্ত্রীকে দিয়ে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবী করছি।
উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তাইফুর রহমান আরিফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলাধারাকে বলেন, আমি একবার উভয় পক্ষকে ডেকে কথা বলেছি। এরপর আমি নিজস্ব তদন্ত করেছি। লকডাউনের জন্য প্রতিবেদন দিতে পারিনি। তদন্তে যেটা পাওয়া যাবে সেটাই প্রতিবেদনে উল্লেক করা হবে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা আবু জাহিদ মো. সাইফুদ্দিন বলেন, উল্লেখিত তারিখে এই নামে কোনো মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেননি। ৮০ নং রেজিস্ট্রেশনে একজন নয় মাসের শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












