বাংলাধারা ডেস্ক »
সুপ্তমনের কৌতুহলে ১০ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু আফিফা তার নানা সৈয়দ মাহমুদুল হকের সাথে সিআরবি’র উন্মুক্ত উদ্যানে বৃক্ষরাজির সাথে পরিচিত হতে এবং জানতে ছুটে আসে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের বৃক্ষপ্রেমীরাও অদ্য ২৪ আগস্ট সকালে সিআরবি প্রাঙ্গনে ঘুরে ঘুরে বৃক্ষ সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করে।
‘বৃক্ষ শোনায় সদা জীবনের গান, বেঁচে থাকা সেজে থাকা বৃক্ষের দান’ প্রতিপাদ্যে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইকো ফ্রেন্ডস’র উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি’র মুক্ত উদ্যানে ‘বৃক্ষ চিনি, বৃক্ষকে জানি’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী কর্মসূচী সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন (বাপসা)’র সহযোগিতায় সিআরবি প্রাঙ্গনে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানকল্পে ব্যতিক্রমি কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. এম.এ. গফুর এবং বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনমির সভাপতি, উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম. আতিকুর রহমান।
ইকো ফ্রেন্ডস’র সভাপতি উত্তম কুমার আচার্য্য’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নোমান উল্লাহ বাহার’র সঞ্চালনায় অতিথি আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, গণঅধিকার ফোরাম’র মহাসচিব ও বাপসা’র সভাপতি এম.এ. হাশেম রাজু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম, সমাজকর্মী নেছার আহমেদ খান, সিআরবি রক্ষা মঞ্চের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমি, আমরা চাঁটগাবাসী’র সমন্বয়কারী এডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু, ওব্যাট হেল্পার্সের কান্ট্রি ম্যানেজার সোহেল আখতার খান, পরিবেশকর্মী সরোয়ার বাবু, চট্টগ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডাঃ আর কে রুবেল, বাসদ চট্টগ্রাম জেলা সদস্য মহিন উদ্দিন, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম, আনন্দ পাঠশালার অধ্যক্ষ শামীম নিগার, ইকো ফ্রেন্ডস’র সাংগঠনিক সম্পাদক কায়ূমুর রশীদ বাবু, এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুর রহমান শিহাব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি রায়হান উদ্দিন, বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডস সোসাইটির সদস্য মো: ওসমান গণি, বাংলাদেশ শ্রম মিশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, চন্দনাইশ ছাত্র সমিতি’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক সায়েম উদ্দিন, ছাত্রনেতা রাগিব আহসান মুন্না, রোটারেক্ট নমিউল হক তোফাইল, ইফতেখার নিজাম, ওব্যাট প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা ইসরাত, মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. এম. এ গফুর বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে জীবনের অপর নাম বৃক্ষ সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জানানোর মাধ্যমে প্রকৃতি সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সিআরবিতেই রয়েছে শতবর্ষী বৃক্ষসহ অজ ছায়াতরু, গুল্ম-লতা যা প্রকৃতিসৃষ্ট।’
অধ্যাপক ড. এম. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বৃক্ষের শোভাবর্ধন ও সবুজের অপরূপ সমারোহে সিআরবি একটি স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক হাসপাতাল। নান্দনিক পরিবেশে হাসপাতাল বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ অযৌক্তিক ও জনস্বার্থ বিরোধী। মানুষের জীবন বাঁচানো কিংবা জীবন সাজানো এবং খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষাসহ অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা পূরণে বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য।’
এম.এ হাশেম রাজু বলেন, সবুজ নগরী গড়তে বৃক্ষরোপন ও পরিচর্যা প্রয়োজন। প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন করে সিআরবিতে যেকোন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। উত্তম কুমার আচার্য্য বলেন, নগরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কিছু জায়গায় বৃক্ষ হয়তো দেখে। কিন্তু চেনেনা বৃক্ষ, জানেনা বৃক্ষের উপকারিতা। বৃক্ষ চেনা এবং বৃক্ষকে জানার জন্য ইকো ফ্রেন্ডস’র এই উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, ‘বৃক্ষ চিনি, বৃক্ষকে জানি’ দশকব্যাপী কর্মসূচির ২য় পর্বে সিআরবিতে সকল বয়সীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












