২৭ মার্চ ২০২৬

খালি জায়গায় পুড়ছে শিল্প বর্জ্য; হচ্ছে পরিবেশ দূষণ

বাংলাধারা প্রতিবেদক»

নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলি ঝর্নাপাড়া এলাকায় দিনে দুপুরে জ্বালানো হচ্ছে পরিত্যক্ত বর্জ্য। যার মধ্যে আছে নষ্ট ট্রান্সফরমার, নষ্ট বৈদ্যুতিক তার, প্লাস্টিক, এবং জাহাজের যন্ত্রাংশ। ফলে বাতাসে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং অত্র এলাকায় হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।

ঝর্নাপাড়া ডেবার পাড় সংলগ্ন খালি জায়গায় ৯ মাস আগেও যেখানে ছিল ঘনবসতি। জায়গাটি রেলওয়ের আওতাধীন হওয়ায় উচ্ছেদ করা হয় ঘনবসতিগুলো। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বসতিগুলো উঠিয়ে দেওয়ার পর খালি জায়গায় জমতে থাকে ময়লার স্তুপ। বর্তমানে সেখানে এখন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। এবং সেই খালি মাঠে পোড়ানো হচ্ছে পরিত্যক্ত শিল্প বজ্য।

এলাকাবাসীরা জানায়, মাঠটির পাশে বেশ কিছু অকেজো লোহা জাতীয় পণ্য বিক্রয়ের দোকান।  সেই দোকানে নষ্ট ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক নষ্ট তার পুড়িয়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে তামা ও লোহা। বর্জ্য পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে আশপাশের বায়ু। স্থানীয়রা এই বিষয়ে অভিযোগ করলে দোকানিদের সাথে জড়িত এলাকার কিছু বখাটে ছেলে অভিযোগকারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সোমবার (৩০ আগষ্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক এর একটি গ্রুপ ‘উই আর চিটাগাং’-এ এক ভুক্তভোগী একটি পোস্ট এর মাধ্যমে অভিযোগ জানায়।  যেখানে লিখা ছিল,

‘প্রতিদিন রাতে, সকালে কিংবা দুপুরে এভাবে লোকালয়ে প্লাস্টিক, ক্যাবল ও জাহাজের যন্ত্রাংশ পুড়িয়ে তামা ও লোহা বের করা হয়। যার দরুন বিষাক্ত ধোঁয়া জনজীবনকে করে তুলেছে দূর্বিসহ। এক তো পরিবেশের জন্য এটি ক্ষতিকারক এর উপর এর আশেপাশে অবস্থানরত মানুষের স্বাস্থ্যঝুকি বেড়েই চলেছে। নিঃশ্বাস নেওয়ার মত অবস্থাটাও নেই। রীতিমতো বাসা ও আশেপাশের সবাই শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছে। এমতাবস্থায় এর প্রতিরোধে কি করণীয়? পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক ব্যাক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

স্থান : পিবিআই এর পাশে, ঝর্ণাপাড়া রোড,  পাহাড়তলি।

(ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা সার্থে ফেইক আইডি থেকে পোষ্ট দিলাম)।

এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন বাংলাধারাকে বলেন, ‘আমাদের পরিবেশ আইন অনুসারে কালো বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হয় এমন কিছু পোড়ানোর নিষেধ আছে। তাছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের আইন অনুসারে যেখানে সেখানে ময়লা বা পরিত্যক্ত বর্জ পোড়ানো যাবে না। আমরা খুব দ্রুত অত্র এলাকার কাউন্সিলরসহ বিষয়টি  তদারকি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।’

১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ নুরুল আমিন বাংলাধারাকে বলেন, ‘জায়গাটা রেলওয়ের, ওরা নজর না দিলে আমরা কী করবো। ওদের কোন নিরাপত্তা কর্মী থাকে না। এর কারণে যে যেমন পারছে‌ করছে।’

তবে  বর্জ্য পোড়ানোর বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন এর অনুমতি ছাড়া সম্ভব না। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মেজিস্ট্রেট গিয়ে সর্বোচ্চ জরিমানা করতে‌ পারবে। এর বেশি কিছু না।‘

স্থানীয় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আশা করে জানান, দ্রুত এই দূষণ বন্ধ না করলে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হবে তেমনি বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে স্থানীয়দেরও নানা সমস্যার দেখা দেবে।  

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন