২৭ মার্চ ২০২৬

মিরসরাইয়ে নৌকা পেতে মরিয়া ব্যবসায়ী ও নব্য আওয়ামী লীগ

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

আগামী ডিসেম্বরের ভেতর সম্পন্ন হবে স্থগিত হয়ে যাওয়া ইউপি নির্বাচন, উপ-নির্বাচনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দেশে আরো ৪ হাজারেরও বেশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৪টি ধাপে এই সময়ে মধ্যে শেষ হবে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

লকডাউন শেষে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে রাজনৈতিক ভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছে নেতাকর্মীরা। তবে দলীয় মনোনয়ন পেতে নব্য আওয়ামাী লীগ এবং ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাপ বেশ লক্ষণীয়। মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যবসায়ী নেতাদের মনোনয়ন দৌঁড়ঝাপে কৌণঠাসা দুঃসময়ের মূলধারার আওয়ামী নেতৃবৃন্দ। অনেক ইউনিয়নে আবার বছর খানেক আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া হঠাৎ নেতা বনে অনেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব রেখেছেন। অনেকে আবার টাকার বিনিময়ে কর্মীদের নিজেদের গ্রুপে ভিড়িয়ে চেষ্টা করছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটানোর। বিভিন্ন ইউনিয়নে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে পরিস্থিতি ,আশংকা করা হচ্ছে বড় কোনো সংঘাতের।

মিরসরাইয়ের ১নং করেরহাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনায়েত হোসেন নয়ন। এছাড়া তিনি দায়িত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। দীর্ঘ সময়ে ছাত্ররাজনীতি এবং আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত দুঃসময়ের এই নেতা মনোনয়ন দৌঁড়ে অনেকটা এগিয়ে। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল হোসেন ও সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসিমও মনোনয়ন প্রত্যাশী দল থেকে। দুজনই র্দীঘ সময় ধরে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হারুন। তিনি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম সম্পৃক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের দুঃসময় থেকে। তাছাড়া দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সোনা মিয়াসহ আরো কয়েকজন।

মিরসরাইয়ের আওয়ামী রাজনীতির আঁতুড়ঘর খ্যাত ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে টানা ১৮ বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মকছুদ আহাম্মদ চৌধুরী। মনোনয়ন দৌঁড়ে আবারো তাকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় ভোটাররা। জোরারগঞ্জে ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে যারা গণ মানুষের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলো তাদের মধ্যে মকছুদ আহাম্মদ চৌধুুরী ছিলেন একজন। দীর্ঘ সময়ে কারাবরণ, মামলা এবং হামলার শিকার হওয়া এই নেতাকে আবারো মনোনীত করার ব্যাপারে সাঁই দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ। তবে দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন ইমন, কালু কুমার দে, নুর মোহাম্মদ সেলিম, ফিরোজ উদ্দিন বাদল, আবুল কাশেম কন্টাক্টকরসহ দুঃসময়ের আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। এছাড়া এই মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মাষ্টার।

৪নং ধুম ইউনিয়নে মনোনয়ন দৌঁড়ে অনেকটা এগিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া। যিনি বর্তমানে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ওই ইউনিয়নে দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন জহির উদ্দিন ইরান আরো কয়েকজন।

৫নং ওচমানপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মফিজ সারেং। দলীয় প্রার্থী হিসেবে আবারো মনোনীত হতে পারেন তিনি। এছাড়া আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন নিজামী, লিয়াকত আলীসহ আরো বেশ কয়েকজন আছেন আলোচনায়। যারা প্রত্যেকেই দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।

মিরসাইয়ের ৬নং ইছাখালী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল মোস্তফা। দুঃসময়ে মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। মনোনয়ন দৌঁড়ে আবারো তাকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলমসহ আরো কয়েকজন।

৭নং কাটাছড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন। দীর্ঘ কয়েক মেয়াদে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন চেয়ারম্যান হিসেবে। চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয়দের কাছে বেশ সুনাম রয়েছে তার। এছাড়া ওই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন তালিকায় আলোচনায় আছেন শাহাদাত হোসেন মনসুর, খন্দকার সফিউল আলম এবং আবুল বশরের নাম।

৮নং দূর্গাপুর ইউনিয়নে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিপ্লব। দীর্ঘ সময়ে ছাত্র ও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত এই নেতাকে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে চায় স্থানীয়রা। এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখায় বেশ সুনাম কুঁড়িয়েছেন তিনি। দূর্গাপুরে মনোনয়ন চাইতে পারেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামরুল হাবিব এবং বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি আছিফুর রহমান শাহীন।

৯নং সদর মিরসরাইয়ে ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এমরান উদ্দিন এর পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল্লাহ দিদার, শামসুল আলম দিদার। বিনয়ী এবং ভদ্র হিসেবে বেশ সুনাম রয়েছে চেয়ারম্যান এমরানের। মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন তিনি।

গত বছর ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন তার ছোট ভাই বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ কাশেম। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল আলমের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে জড়িত ছিলেন ছাত্র ও আওয়ামী রাজনীতিতে।মনোনয়ন দৌঁড়ে আবারো মনোনীত হতে পারেন এই নেতা।

১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টারের পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক চেয়ার‌ম্যান শাহীনুল কাদের চৌধুরী, মিহির বাবু ও সাইফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

১২ নং খৈয়াছড়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী মরিয়া নৌকা পেতে। এছাড়া দৌঁড়ঝাপ দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জুনুসহ আরও বেশ কয়েজন।

১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কবির নিজামী আবারও পেতে পারেন দলীয় মনোনয়ন। আরো কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

১৪ নং হাইতাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা ৪ বার দায়িত্ব পালন পালন করছেন জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী।নানমুখী উন্নয়ন, জনপ্রিয়তা এবং হাইতাকান্দি ইউনিয়নের মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্কের কারণে একক প্রার্থী হিসেবে আবারা দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন তিনি। এছাড়া ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু আওয়ামী রাজনীতি সক্রিয় থেকে বর্তমানে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এই নেতা। এর আগে তিনি পালন করেছেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজও বেশ আলোচনায় আছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা এবং এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য। তিনি দায়িত্ব পালন করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। মনোনয়ন দৌঁড়ে তিনি আবারো এগিয়ে।

১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয়দের কাছে বরাবরের মতো এবারও পছন্দের তালিকায় সবার উপরে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী। পারিবারিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন মিরসরাই উপজেলা যুবলীগের বিগত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে। বর্তমান মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুঃসময়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে নৌকা প্রতীক দেওয়ার আহ্বান জানান প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতৃব্ন্দৃ। মিরসরাইয়ের বিভিন্ন অঞ্চলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলেন, দলের সুসময়ে অনেকে অর্থের প্রভাবে দলীয় মনোনয়নের জন্য দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। কর্মীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে টাকার বিনিমিয়ে নিজেদের গ্রুপ ভারি করছেন।এই ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হলে আওয়ামী লীগের প্রকৃত আর্দশ হারিয়ে যাবে।

তারা আরো বলেন- ২০০৮ পরবর্তী সময়ে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় হয়েছেন তাদের মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করা উচিত। নতুনদের অবশ্যই স্বাগত তবে এই্ নৌকার সাথে আমাদের চেতনা, আর্দশ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ জড়িত।

এই ব্যাপারে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বাংলাধারাকে বলেন, দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আমরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করবো। আমাদের প্রিয়নেতা, চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দিকনির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিদের্শনা অনুযায়ী অবশ্যই ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতারা মূল্যায়িত হবে।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন