১৮ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ট্রাক-লরির স্ট্যান্ড!

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হলেও বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে সড়কের দু’পাশ। নগরীর সিটিগেট থেকে কুমিরা পর্যন্ত মহাসড়কের দু’পাশের ট্রাক, কাভার্ডভ্যান আর কন্টেনার মোভারের দখলে থাকায় সাধারণ যান চলাচলে বিপত্তি ঘটছে।

হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কন্টেনার মোভার থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকৃতির ভারী যানবাহন মহাসড়কের দু’দিক দখল করে আনলোডিংয়ের অপেক্ষায় থাকে। চারলেনের এ সড়কের দুই লেন দিনের বেশিরভাগ সময় দখলে থাকায় আবারও ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন পরিবহণের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত চারলেন রাস্তাই যেন এখন পার্কিং ভারী যানবাহনের। ২০১৬ সালের জুনে এ সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়। চারলেন সড়ক নির্মিত হলেও যানজট বন্ধ হয়নি। আবার আইল্যান্ড অথবা রোড ডিভাইডারের বিভিন্ন অংশ দখলে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও চারলেন সড়ক চিহ্নিত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সাদা রঙের ডিভাইডারও দেয়া হয়েছে বিভিন্ন গাড়ীর গতিসীমা অনুযায়ী।

অভিযোগ রয়েছে, সিটিগেট থেকে কুমিরা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে রয়েছে অর্ধশত বৃহৎ আকারের শিল্প কারখানা। এরমধ্যে রয়েছে রি রোলিং মিল, সিমেন্ট কারখানা ও জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পসহ নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কবির স্টীল রি রোলিং মিল, জিপিএস ইস্পাত কারখানা, কনফিডেন্স সিমেন্ট কারখানা, বিএসআরএম, কেডিএস লজিস্টিক কন্টেনার ডিপো, আবুল খায়ের স্টীল মিলস, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস কারখানা, মোস্তফা হাকিম সিমেন্ট কারখানাসহ অর্ধশত শিল্প কারখানা। এসব কারখানাগুলোর কন্টেনার মোভার, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী ট্রাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম-কুমিরা অংশে চারলেন সড়কের দু’পাশের বেশিরভাগ অংশই দখল করে নেয় প্রায়শ।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যসামগ্রী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কারখানায় প্রবেশের আগ মুহূর্তে সড়কের ওপর রাখা হচ্ছে গাড়ির সারি। ফলে রাস্তার উভয় দিকে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীবাহী পরিবহণগুলো রাস্তার উল্টো দিকে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট ও দুর্ঘটনা। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

এছাড়াও এসব কারখানায় পণ্যবাহী গাড়ি প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়ার কারণে যানজটের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়বকুণ্ড এলাকায় গুল আহমদ জুট মিলের গাড়িও রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিটিগেট থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত পুলিশের টহল টিম কার্যকর রয়েছে। কিন্তু বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানগুলো সড়কের দু’পাশে অবৈধভাবে পণ্যবাহী গাড়ি অপেক্ষায় রাখায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে কারখানাগুলোর কর্র্তৃপক্ষকে দফায় দফায় সচেতন করার পরও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এছাড়া এসব কারখানার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে প্রশাসনের কথাও কানে তুলছে না। তবে দুর্ঘটনার শিকার হলে সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ভারী পরিবহণ সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে।

বাংলাধারা/এআই

আরও পড়ুন