জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»
সংগঠনকে গতিশীল করতে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি গঠন শুরু করেছে উপজেলা সভাপতি-সম্পাদক। সম্প্রতি তিনটি ইউনিয়নের কমিটিও ঘোষণা করেছেন তারা। এতে ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা, প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা দিলেও সাংগঠনিক এ কার্যক্রমকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করতে পারেননি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন। তাকে না বলে কেন এসব ইউনিটে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই অজুহাতে বুধবার রাতে তার অনুগত ক্যাডার পাঠিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী তামজিদ পাশার উপর বর্বর হামলা করিয়েছেন তিনি। অপহরণ চেষ্টারত হামলাকারীদের হাত থেকে আহত ছাত্রলীগ নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকার শুটকি ব্যবসায়ীরা।
এসময় তামজিদ তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মায়ের দোয়া শুটকি বিতানে বেচাকেনারত ছিলেন। হামলাকারীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও মোবাইলসহ মূল্যবান পণ্য সামগ্রীও নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন আহত ছাত্রলীগ সভাপতি তানজিম। এ ঘটনা প্রকাশ পাবার পর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির প্রতি ঘৃণা জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
আহত ছাত্রলীগ সভাপতি তামজিদ বলেন, করোনাকালীন সময় থেকে নানা কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটে নেতাকর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছেন। অনেক ইউনিয়নে নতুন করে কমিটিও গঠন করা হয়নি। এ অবস্থায় সংগঠনকে গতিশীল করতে জেলা ছাত্রলীগের সাথে পরামর্শ করে আমরা কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ঝিমিয়ে পড়া বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। কিন্তু সংগঠনের এ গতিশীলতা মেনে নিতে পারেন নি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন। কমিটি কেন গঠন করেছি তা নিয়ে একাধিক বার ফোন করে বিভিন্নভাবে আমাকে গালমন্দ করেছেন। করেছেন বকাঝকাও। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমার সাংগঠনিক অভিভাবক হওয়ায় এ বকাঝকাকে তেমন গুরুতর ভাবে নিয়নি। কিন্তু বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হামলা চালায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারীরা।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সাদ্দামের অনুসারী সাদমান, আরিফ, মুন্না ও শিহাবসহ আরও বেশ কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেয়।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ঘটা হামলার ঘটনায় তাকে টেনে হেছড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তার চিৎকারে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সিসি টিভি ফুটেজ যাচাই করে হামলার সত্যতা মিলেছে।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারিরা সাদ্দাম ভাইকে না জানিয়ে কোন সাহসে কমিটি দিয়েছিস বল? তুকে আজ মেরে ফেলব.. এসব কথা বলতে বলতে আমার ওপর হামলা করে। এসময় তারা বলেন, এখানে মেরে ফেললে ধরা পড়ে যাব, চল আস্তানায় নিয়ে যায় বলে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। হামলায় তামজিদের মুখে, হাতে, শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে।
তাকে না জানিয়ে কমিটি গঠন করায় ফোন করে বকাঝকা করার সত্যতা স্বীকার করলেও হামলার বিষয়টি অবগত নয় জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন বলেন, হামলায় যারা অংশ নিয়েছে তারা আমার সাথে থাকে সেটা ঠিক তবে আমি তামজিদকে মারতে তাদের পাঠায়নি। হামলা করালে অপরিচিত কাউকে দিয়ে করাতাম, এটা তৃতীয় কোন পক্ষের কারসাজি। আমি ঢাকায় রয়েছি, কক্সবাজার ফিরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।
জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন, আমি কক্সবাজারে বাইরে রয়েছি, তবে হামলার বিষয়টি আমি অবগত। ঘটনাটি চরম লজ্জার ও দুঃখজনক। কি কারনে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রলীগে কোন অপরাধীর স্থান নেই।ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে একমুহুর্তও ভাবা হবে না।
জেলা সভাপতিকে না জানিয়ে কোন উপজেলা সভাপতি-সম্পাদক ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন দিলে হামলা করানোর ঘটনা কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, এটি কখনো কাম্য নয়। কক্সবাজারের ঘটনাটির সত্য-মিথ্যার বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দে বলেন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির উপরে হামলার বিষয়ে একটি এজহার পেয়েছি। ছাত্রলীগের আরেকটি পক্ষও একটি এজহার দিয়েছে। ঘটনা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












