২৭ মার্চ ২০২৬

ফটিকছড়ির চৌদ্দ ইউনিয়নে নৌকা চান ৯০ জন

সীরাত মঞ্জুর, ফটিকছড়ি»

সম্প্রতি সারাদেশে দ্বিতীয় ধাপে ৮’শ ৪৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ধাপে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আসন্ন ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সরকার দলীয় ৯৩ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে উপজেলা আওয়ামীলীগ বরাবর আবেদন করেছে। এদের মধ্যে ৩ জনের আবেদন সময় ক্ষেপণ হওয়ার কারণে বাতিল করা হয়েছে। অন্য দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এলাকায় আগাম প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছে। 

এদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগ আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাচাই শেষে ৪ঠা অক্টোবর রাতে সর্বশেষ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদন ফরম স্বাক্ষরপূর্বক স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডে পঠিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বোরহান আহমদ। ফলে দলীয় সবুজ সংকেতের আশায় ৫ অক্টোবর হতে ঢাকামূখী মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

৯০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০জন আবেদন করেছে সমিতিরহাট ইউনিয়ন থেকে। 

এর মধ্যে উপজেলার ১নম্বর বাগানবাজার ইউনিয়নে আ.লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান রুস্তম আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ডা: শাহাদাত হোসেন সাজু ও ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

২ নম্বর দাঁতমারা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান, উপজেলা আ.লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক জানে আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আলম, ইসমাইল মজুমদার, ইউনিয়ন আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক আবু মনছুর ও মাস্টার জয়নাল।

৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আ.লীগ নেতা নুরুল আমিন, সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম, যুবলীগ নেতা খোরশেদুল আলম মামুন, সাবেক ছাত্রনেতা বাবলু বিশ্বাস, ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা বিকাশ কান্তি নন্দি ও ইদ্রিছ আলম।

৫ নম্বর হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান সরোয়ার আজম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টু, আ.লীগ নেতা কাজী রহমত উল্লাহ ও যুবলীগ নেতা রবিউল হোসেন সিকদার রুবেল।

৬ নম্বর পাইন্দং ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম সিকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য তসলিম বিন জহুর, শফিউল আজম, রাইসুল ইসলাম চৌধুরী এমিল, ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি হাবিবুল্লাহ চৌধুরী সাবু, সাধারণ সম্পাদক মজাহারুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা বেলাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা সাদেক আলী সিকদার শুভ।

৭ নম্বর কাঞ্চননগরে ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি দিদারুল আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান তানভীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জানে আলম ও আ.লীগ নেতা এটিএম আমান উল্লাহ।

১০ নম্বর সুন্দরপুর ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমান উল্লাহ চৌধুরী লিটন, দিদারুল বশর চৌধুরী দুুদু, সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক ইউপি যুবলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শহিদুল্লাহ, যুবলীগ নেতা মেজবাহ উদ্দিন সিকদার ও ফরিদ সিকদার।

১৩ নম্বর লেলাং ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন, উপজেলা আ.লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন মুহুরী, ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি জসীম উদ্দিন মুহুরী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান বাবুল, আ.লীগ নেতা ওয়াহিদুল আলম, সাইফুদ্দিন মাহমুদ ও ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ করিম। রোসাংগিরীতে বর্তমান চেয়ারম্যান শোয়েব আল সালেহীন, ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আলম, উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা সেলিম জাবেদ, সাবেক ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন, তারেক নেওয়াজ পলাশ ও মোফাচ্ছের হোসেন। 

বক্তপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোলায়মান বি.কম, উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান স্বপন, কার্যানির্বাহী সদস্য জালাল হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল আজম, আব্বাস উদ্দিন বাদল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মীর মোরশেদুল আলম।

ধর্মপুরে উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হক, কার্যনির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ মাসুদ পারভেজ, যুবলীগ নেতা মোরশেদুল আলম ও মুহাম্মদ সরোয়ার।

জাফতনগরে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগ নেতা আব্দুল হালিম, উপজেলা আ.লীগের সদস্য আফাজ উদ্দিন, শফিউল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা জিয়া উদ্দিন জিয়া, ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি জিন্নাত আলী, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম, শহিদুল ইসলাম, মুহাম্মদ সেলিম ও ফয়েজ উল্লাহ মুজিব। সমিতিরহাট বর্তমান চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ইমন, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ, আ.লীগ নেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট মঞ্জুরুল আজম, সাইফুল ইসলাম মনজু, আব্দুস সবুর, রফিকুল ইসলাম, ইউসুফ সিরাজ, মোকাররম হোসেন ও হানিফ হোসেন।

আব্দুল্লাহপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান অহিদুল আলম, আ.লীগ নেতা এস.কে.এম সেলিম, আব্দুল মাবুদ, এডভোকেট নাসির উদ্দিন মহসিন ও তৈয়ব আলী নৌকা পেতে দলের কাছে আবেদন করেছেন। 

ইতোমধ্যে নৌকা প্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা ৮ ও ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। মূলত এ বৈঠকের পরই জানা যাবে ফটিকছড়ির ১৪ ইউনিয়নে নৌকার মাঝি কারা হচ্ছেন।

উল্লেখ্র, গত পহেলা সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা হতে পরদিন ২রা সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে সংগঠনের দায়িত্বরতদের হাতে মনোয়নয় প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন ফরম জমাদেন।

সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান করে ১১সদস্য বিশিষ্ট্য গঠিত চার্জ কমিটি ৯০ জন প্রার্থীর আবেদন ফরম যাচাই বাচাই করে নামের তালিকা প্রণয়ন করেন। নিয়ম অনুযায়ী গঠিত তালিকায় ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করে তা জেলা আওয়ামীলীগ বরাবরে পাঠিয়ে দেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ২০ অক্টোবর, আপিলের তারিখ ২১, ২২,২৩ অক্টোবর, আপিল নিষ্পত্তি ২৪ ও ২৫ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর, প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২৭ অক্টোবর।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন