২৭ মার্চ ২০২৬

রাস্তা সংস্কারের নামে চসিকের অর্থ লুট

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

মিথ্যা বুলির উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর করে চট্টগ্রামবাসী থেকে ভোট আদায় করেছে বর্তমান মেয়র  ও কাউন্সিলররা। উন্নয়নের উদ্যোগ নেই নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের। ৯নং ওয়ার্ডের বিএনপি-জামায়াপন্থী সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিমের বিরুদ্ধে রাস্তা নেই তবে সংস্কারের নামে অর্থ লুটের অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম শহরকে আরো নান্দনিক করতেই বিজয়ী করা হয়েছিল মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও সাধারন কাউন্সিলরদের। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অনেক প্রত্যাশা এখন নগরবাসীর কিন্তু প্রায় দুই বছর পার হচ্ছে উন্নয়ন স্বপ্নেই থেকে গেল। বরং কাউন্সিলররা উন্নয়নের নামে সড়কের নাম পাল্টিয়ে বরাদ্দকৃত বাজেট নিজের পকেটে পুরছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর আকবরশাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই একটি রাস্তার উন্নয়নের নামে ১০/১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

জানা গেছে, ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আকবরশাহ মাজারের পূর্ব পার্শ্বে শহীদ স্মরণী আবাসিক এলাকার ২নং সড়কটি। ২০১০ সালে ইট সোলিংয়ের পর আর কোন কাজ করা হয়নি।

এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের এই সড়তটির নাম পাল্টিয়ে অর্থ লুটে নিতে আকবরশাহ রুহুল আমিন বাই লেন সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ নেয়া হয়েছিল। ২০১১-১২ অর্থ বছরে ২৮৭ নং কার্যাদেশে এ সড়কটির জন্য ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতের আর্শীবাদপুষ্ট কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম পুরো সাত লাখ টাকাই আত্মসাৎ করেছে।

এ চক্রান্ত করতে তিনি রাস্তাটির নাম পর্যন্ত পাল্টে দিয়েছেন। আকবরশাহ রুহুল আমীন বাই লেন নামে এই সাত লাখ টাকা নিজের পকেটে পুরেছেন এমন অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। কারণ এই নামে ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে কোন রাস্তা নেই। সিসি  ঢালাই তো দূরে থাক একটি ইটও বসানো হয়নি শহীদ স্মরণী আবাসিক এলাকার ২নং সড়কটিতে। গত ১০ টি অর্থ বছরেই এ সড়কের কোন উন্নয়ন হয়নি। ২০১০ সালের পর থেকে।

অথচ প্রাকৃতিকভাবেই নান্দনিক শহর চট্টগ্রাম। আরো নান্দনিক এমনকি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলেই হেলদি সিটিতে পরিণত হবে নান্দনিক এ শহরটি। ১৯৯১ সালে প্রথম সিটি নির্বাচন হলেও সেই থেকেই মেয়র-কাউন্সিলরদের মিথ্যা বুলিকেই নগরবাসী স্বপ্ন বানিয়ে ভোট দিয়ে এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্নগুলো বুলিতেই থেকে যাচ্ছে নির্বাচিতদের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম ও আ জ ম নাসিরের মেয়াদকালে বর্ষা মৌসুম ছাড়াও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে সয়লাব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। এখনও পর্যন্ত জলবদ্ধতার এ ধরনের সমস্যার নিরসন হয়নি। তবে তিন তিনবার নির্বাচিত মেয়র ও নগর পিতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে এমন জলবদ্ধতা বা পানিবন্দির ঘটনা ঘটেনি।

অভিযোগ রয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স হ্রাস করে বাড়ীর মালিককে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে উৎসাহিত যেমন করছে না তেমনি শূন্যতা ভাতা বাদ না দিয়ে মোট আয় নির্ধারনের ফলে হোল্ডিং ট্যাক্স বেড়ে যাচ্ছে। বাৎসরিক ভাড়া আয়ের তুলনায় হোল্ডিং ট্যাক্স বেশী হওয়ায় অনেকেই তা পরিশোধে নারাজ। 

এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং দমনে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কাউন্সিলররা গ্রহন করার কথা থাকলেও তা অকার্যকর। বড় ভাইদের হাত ধরে ছোট ভাইয়েরা গর্জে উঠলেও কেউ নেই। মাদক বিরোধী কার্যক্রম জোরদার সহ এলাকা ভিত্তিক মাদকাসাক্ত নিরাময় কেন্দ্র চালু করে জনগনকে মাদকাসক্ত থেকে মুক্তি দেয়ার যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল তাও ভেস্তে গেছে। নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাও চোখে পড়ছে না নগরবাসীর।

বরং ভোগান্তির কারণকে সাইনবোর্ড বানিয়ে চসিকের সর্বশেষ ৬ষ্ঠ নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থীরা বুলি ছেড়েছেন। শেষ পর্যন্ত পানিবন্দি দশা থেকে আদৌ মুক্তি পাবে কিনা তা নিয়ে এখন সংশয় রয়েছে নগরবাসীর মাঝে। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ যেমন হয়নি তেমনি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী মাটি পড়ে খাল ও নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে। এছাড়াও নালা ও খালে নগরবাসীর বর্জ্য নিক্ষেপ বিষয়েও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার বিষয়টিও এখনো আমলে নেয়নি চসিক।  

এদিকে, প্লট ও ফ্ল্যাট তৈরিতে পাহাড় কাটা বন্ধ না হওয়ায় নগরীর ভারসাম্য ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতরের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও যদি চুপসে যায় বা পাহাড় কেটে আবাসিক এলাকা নির্মাণ করে তাহলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে চসিক । তবে এ দুটি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে ভূমিদস্যুরা নগরীর খুলশী, বায়েজিদ ও আকবরশাহ থানা এলাকার পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের নান্দনিক সৌন্দর্য্য।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে মোট ৮০টি প্রাইমারী স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, কিন্ডার গার্টেন, কম্পিউটার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে চলমান আছে। তবে পড়ালেখার মান খুবই নিম্নমুখী। এছাড়াও ৫১০টি নূরানী মাদ্রাসা বা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা রয়েছে যা চলছে ধুঁকে ধুঁকে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত শিক্ষা গ্রহন করছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা বিভাগ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে না এর তদারিকও করছে না মেয়র। তবে এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে লেখাপড়ার মান উন্নয়ন, স্কুলে প্রবেশ ও প্রস্থান, ক্লাস কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও পরীক্ষার ফলাফল সবকিছু নিশ্চিত করতে না পারলে ডিজিটালাইজড যুগ থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে চসিকের এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।ফলে ঘরে বসে অভিভাবকরা মোবাইলের মাধ্যমে মনিটরিং করতে পারছেন না। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় বা অধিকতর শিক্ষা গ্রহনে  বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করার প্রত্যাশা এখন নগরবাসীর কাছে স্বপ্নের মতোই।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন