২৭ মার্চ ২০২৬

ওভার ভোল্টেজে বিদ্যুতের গার্ডওয়্যারে আগুন

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

কয়েকদিন পরপর ওভার ভোল্টেজের কারণে গ্রাহকের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী পুড়ে যাচ্ছে। কিন্তু কর্ণপাত করছে না পিডিবি’র খুলশী বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র।  হাজার হাজার টাকা ক্ষতি হলেও পিডিবি’র পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বুধবার সকালে আবারো পিলারের গার্ডওয়্যার ছিড়ে পড়েছে। ভোর ৫টা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে বিকট বিকট শব্দে গার্ড অয়্যার ৩৩ কেভি ও ১১কেভি তারের উপর পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে জাকির হোসেন রোডে পড়েছে। আকবরশাহ কবরস্থানের পার্শ্ববর্তী একটি পিলানে আগুন ধরে যাওয়ায় দমকল কর্মীদের একটি গাড়ীও আসতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘন্টা পর বিদ্যুত সংযোগ পেয়েছে এলাকাবাসী। দুপুর একটার দিকে আবারো পিডিবির তারে বিকট শব্দ। আরেক দফায় গ্রাহকের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী পুড়ে ছাই।

এদিকে নিজেদের দুর্বলতার বিষয়টিও স্বীকার করছে না পিডিবি। তবে খুলশী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরেওয়াজ মিয়া বাংলাধারাকে বলেছেন ব্যবহারকারীরা আবাসগৃহে আর্থিং না লাগানোর কারনেই লাইন অফ থাকার পরও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। অত্যাধুনিক সার্কিট ব্রেকার লাগানো রয়েছে পাওয়ার হাউসে। গ্রাহকের ক্ষতি হওয়ার আগেই সার্কিট ব্রেকার পড়ে যাবে। পরিবেশ ভবন এলাকায় ৩৩কেভিএ ও ১১কেভিএ তার পিলারে কাছাকাছি অবস্থানে নেই। তবে তারগুলোকে রাবার ইনস্যুলেটেড করা হচ্ছে।  আগামী শনিবার প্রায় দুই হাজার মিটার ১১কেভিএ তারগুলোকে পরিবর্তন করা হবে।

বুধবার বিষয়টি চট্টগ্রামস্থ বিদ্যুৎ ভবনের প্রধান প্রকৌশলীকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে বাংলাধারাকে আশ্বস্থ করেছেন। এমনকি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্রবস্থা গ্রহনের জন্য ঘটনাস্থলের বিভিন্ন পিলারের ও গার্ড ওয়্যার ছিড়ে পড়ার ছবিগুলো পাঠানো হয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, ১১ কেভি তারে অতিরিক্ত বিদ্যুতায়িত হয়ে গৃহাস্থলির ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী পুড়ে বিনষ্ট হচ্ছে। ১১কেভিএ তারগুলো রাবার ইনস্যুলেটেড না হওয়ার কারনে এবং ট্রান্সফরমারের আর্থিং দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ওভার ভোল্টেজে বিদ্যুত  প্রবাহিত হয়ে গ্রাহকের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিনষ্ট ও পুড়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটছে। আবাসিক গৃহে থাকা সার্কিট ব্রেকারও কাজ করছে না।

আরো অভিযোগ রয়েছে, পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের সামনেই খুলশী পাওয়ার গ্রীড ও সাবস্টেশন। কিন্তু এই সাব স্টেশনের আশপাশ এলাকায় প্রতিনিয়ত বিদ্যুত  বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে ওভারলোডের কারনে। ২৫০কেভিএ ট্রান্সফরমারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরাও অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়াও ৩৩ কেভিএ ও ১১ কেভিএ পাওয়ার ক্যাবল পিলারে খুবই সন্নিকটে থাকায় আকস্মিক বিদ্যুতায়িত হয়ে অতিরিক্ত ভোল্টেজ সরবারাহ করার ঘটনা ঘটছে। জাকির হোসেন সড়কের এই স্পটে মাত্র ৫০০ ফুটের মধ্যে কমপক্ষে ৪টি স্পটে বিদ্যুতের লাইন রাস্তা ক্রস করলেও কোন নেট বা জাল ব্যবহার করা হয়নি। যে কোন  মুহুর্তে বিদ্যুতের এসব উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তার ছিড়ে পড়লে গাড়ী ও পথচারীরা বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের ঝর্ণার পাহাড়সহ পরিবেশ অধিদফতরের সামনে মাত্র ৫০ ফুটের মধ্যে তিনবার ঝুকিপূর্ণভাবে ক্যাবল পিলার টু পিলার ট্রান্সফার করা হয়েছে। 

বুধবার ভোরে  প্রত্যক্ষভাবে দেখা  গেছে, পরিবেশ ভবনের সামনে থেকে পাহাড়তলী রেলওয়ে কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ফুট গার্ড ওয়্যার ছিড়ে টুকরো টুকরো হয়ে রাস্তায় পড়েছে। রাস্তায় থাকা মানুষের চিৎকারে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরের লাগোয়া বিএসআরএম’র ১৮নং পিলারে থাকা সিএমপি’র একটি সিসি ক্যামেরাও ছিড়ে ঝুলে রয়েছে। এর আগের পিলারটিতে বিভিন্ন সেবা সংস্থারও ক্যাবলে আগুন ধরে যায়।  সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পিডিবি’র একটি গাড়ী এসে মেরামত কাজ শুরু করলেও কদমতলী ও বিএসআরএম’র লোকজন না আসায় মেরামত কাজ গড়িয়েছে দুপুর পর্যন্ত। কিন্তু মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে আবারো বোমের মত বিকট শব্দে কাট্টলী ভূমি অফিসের সামনে থাকা ২৫০ কেভিএ ট্রান্সফরমারের ফিউজ বিকট শব্দে পুড়ে যায়। এসময়ও এলাকার অনেক ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়েছে। আবাসিকের অনেক লাইট দুই টুকরো হয়ে মেঝেতে পড়েছে।    

এদিকে, জাকির হোসেন রোডে শহীদ স্মরণী আবাসিক এলাকার তিনটি সড়কে থাকা আবাসিক ভবনগুলো ছাড়াও শতাধিক বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে। মূল সড়কের সঙ্গে লাগোয়া এসব গ্রাহক চরম ভোগান্তীতে রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। সকাল সন্ধ্যা বলে কোন কিছু নেই। গত একমাসে  কমপক্ষে ৬ বার ওভার ভোল্টেজের কারনে গ্রাহকদের হাজার টাকার এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভ্যান এমনকি সিলিং ফ্যানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতেও পরিবেশ অধিদফতরেরসামনে থাকা পিলারে রাত সাড়ে বারোটার দিকে বিকট শব্দে বিদ্যুত বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১১কেভিএ এর একটি তার ছিড়ে রাস্তায় পড়ে গেছে। খুলশী গ্রীডের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছেন প্রচুর বৃষ্টির কারনে ৩৩ কেভিএ ও ১১কেভিএ তারের মধ্যে বিদ্যুতায়িত হওয়ার কারনে অতিরিক্ত ভোল্টেজ সঞ্চালিত হয়েছে। এতে ট্রান্সফরমার থেকে আবাসগৃহ ও বানিজ্যিক স্থ্পানায় অতিরিক্ত বিদ্যুত সঞ্চালিত হয়ে বিভিন্ন বন্ধ থাকা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীও বিনষ্ট হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন