২৭ মার্চ ২০২৬

রাঙ্গুনিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি হতে চান এম এ হান্নান চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি»

রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় দফা তফসিল ঘোষণা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী হাওয়া বইছে। রাঙ্গুনিয়ার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিলও যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সুত্রে জানা যায়, দলের দুঃসময়ে যারা দলের জন্য ত্যাগ, নির্যাতনের শিকার ও হয়রানী মামলায় কারাবরণ করেছেন। তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মূল্যায়ন করা হবে। রাঙ্গুনিয়ার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও, ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নীতিনির্ধারকের মন জেতার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৭ নম্বর বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী এম. এ. হান্নান চৌধুরী। তিনি কিছুদিন আগে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দো’আ চেয়ে তাঁর ফেইজবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানান। এবং এম এ হান্নান চৌধুরী ছাড়াও বেতাগী ইউপি নির্বাচনে আরও অনেকেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বেতাগী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দিদারুল ইসলাম জানান, মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান চৌধুরী দল থেকে নৌকার মাঝি হয়ে বেতাগী ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকায় ব্যবসায়ী থেকে প্রবাসী অনেকেই নৌকার মাঝি হতে ভীর করছেন। সকলের রাজনৈতিক আমলনামা তথ্যমন্ত্রীর নোটবুকে লিপিবদ্ধ আছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় প্রবীণ এক আ’লীগ নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে এত আওয়ামী লীগ চোখে দেখেনি। এখন আওয়ামী লীগ রাস্তা, ঘাটে ও বাজারেও দেখা যায়। রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি একজন ত্যাগী নেতা। তৃণমূল থেকে উঠে বর্তমানে বৃহত্তর আওয়ামী লীগ দলের অন্যতম কর্ণধার। তথ্যমন্ত্রী জানেন, কারা আওয়ামী লীগ আর কারা মৌসুমি আওয়ামী লীগ। দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই সুযোগ চাইবে নৌকায় উঠতে। যারা দলের জন্য মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ করায় মিথ্যা মামলায় জেল-জুলুমের কারাবন্দী হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এম এ হান্নান চৌধুরী। এম এ হান্নান চৌধুরীকে বেতাগী ইউপি চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ হান্নান চৌধুরী জানান, ২০১৭ সালে দল থেকে বেতাগী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি চেয়েছিলাম। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, শেষে এসে তরী ফিরে যায় অন্যদিকে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দল যাকে নৌকার মাঝি করবেন, তার বাইরে যাওয়ার কারো সুযোগ নেই। দলের নীতিনির্ধারক যদি বেতাগী ইউপি চেয়ারম্যান পদে আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে আমি মনোনয়ন চাইব।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষের সেবা কাকে দিয়ে নিশ্চিত হবে, সেটা রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ভাল জানেন।

বেতাগী আওয়ামী লীগের নৌকা এখন ভরপুর। তবে ২০০৯ সালের আগে এত আওয়ামী লীগ কোথায় ছিল বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি? আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় অনেকেই আওয়ামী লীগ হয়েছেন। ক্ষমতার পালা বদল হলে দেখা যাবে প্রকৃত আওয়ামী লীগ কারা! ত্যাগীরা কখনো দলের দুর্নাম করতে পারে না। যারা করে তারা হাইব্রিড, আওয়ামী লীগ নয়।

রাজনৈতিক জীবন

জোট শাসনামলে আওয়ামী লীগ করতে গিয়ে জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এম এ হান্নান চৌধুরী। চরম নির্যাতনের শিকার এম এ হান্নান চৌধুরী প্রতিপক্ষের আক্রোশের হয়রানীর শিকার জেল-জুলুম, মিথ্যা সাজানো বানোয়াট মামলার আসামি হওয়ার পরও মুক্তিযুক্তের সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে পিছপা হয়নি।দলের প্রতিটি কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। হান্নান চৌধুরী রাজনৈতিক তারকা হিসেবে নতুন মুখ নয়। ১৯৮৩ থেকে ৮৭ সাল পর্যন্ত কানুনগো সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ৮৮ সালে বেতাগী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রথম ছাত্র সংগঠক এবং পরে বেতাগী ইউনিয়ন যুবলীগের প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি বর্তমানে বেতাগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বেতাগী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদেরও সভাপতি তিনি। এছাড়া তিনি বেতাগী রোটারী স্কুল কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি শিক্ষানুরাগী, সমাজ সেবক ও মানবতার বাতিঘর হিসেবেও সবার কাছে সুপ্রিয় মুখ।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন